নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে বক্রেশ্বর মন্দির চত্বরে ভক্তদের ঢল নামল। বীরভূমের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি আশপাশের একাধিক জেলা থেকেও বহু ভক্ত এদিন মন্দিরে ভিড় জমান। সুদূর উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা থেকেও বহু ভক্তের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রাবণ মাসের শেষ সপ্তাহে মন্দির চত্বরে কমপক্ষে এক লক্ষ ভক্তের আনাগোনা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ভিড় সামলাতে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মন্দিরের দরজা ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বক্রেশ্বর মন্দির সেবাইত কমিটির সভাপতি অলোক চৌধুরী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর ভক্তদের আনাগোনা যথেষ্ট বেশি ছিল। এবছর শ্রাবণ মাসের পরপর চারটি সোমবার মিলিয়ে কমপক্ষে দুই লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। শুধুমাত্র শেষ সপ্তাহেই প্রায় এক লক্ষ ভক্ত আসেন। সেক্ষেত্রে রবিবার রাত ১২টার পরই মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়।
ফি-বছর শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবারে বক্রেশ্বর মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। এবছরও তার অন্যথা হয়নি। মন্দিরে আসা ভক্তদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা হয়েছিল। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক লাইনের ব্যবস্থা ছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মন্দিরের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রান্তে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিস নজরদারি চালায়। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গিয়েছে, অন্যান্য বছরের মতো এবারও শ্রাবণ মাসের প্রতি রবিবার রাত ২টো নাগাদ মন্দিরের দরজা ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তবে, শেষদিনে ভক্তদের ব্যাপক ঢল নামবে, সেই অনুমান করে সিদ্ধান্ত বদল করা হয়। রাত ২টোর পরিবর্তে দু’ঘণ্টা আগেই মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়। সেই সময় থেকেই ভক্তরা শিবের মাথায় জল ঢালতে শুরু করেন। এদিন বিকেল পর্যন্ত মন্দির চত্বরে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বক্রেশ্বর মন্দিরে আগত ভক্তরা পুণ্য অর্জনের জন্য পাপহরা গঙ্গায় ডুব দিয়ে থাকেন। যদিও এবছর শ্রাবণ মাসের প্রথম দু’টি সপ্তাহে ভক্তরা সেই পুণ্যস্নান থেকে বঞ্চিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, ভক্তরা মন্দিরে পৌঁছে শিবের মাথায় জল ঢাললেও পাপহরা গঙ্গায় নামতে পারেননি। ঘাট সংস্কারের কাজ চলায় মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে নির্দেশ জারি করে ভক্তদের পাপহরা গঙ্গায় নামতে বারণ করা হয়েছিল। যদিও তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই সকলকে পাপহরা গঙ্গায় নামার অনুমতি দেওয়া হয়।