Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মৎস্যজীবীদের জালে ডলফিন দেখতে ভিড় জামালপুরে

বহুদিন পর বুধবার দামোদরে দেখা মিলল ডলফিনের। জামালপুরের সাদিপুরে মৎস্যজীবীদের জালে আটকে যায় এই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীটি।

মৎস্যজীবীদের জালে ডলফিন দেখতে ভিড় জামালপুরে
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বহুদিন পর বুধবার দামোদরে দেখা মিলল ডলফিনের। জামালপুরের সাদিপুরে মৎস্যজীবীদের জালে আটকে যায় এই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীটি। তবে মৎস্যজীবীরা সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন। ডলফিনটিকে উদ্ধার করে মাঝনদীতে ছেড়ে দিয়ে সেটির প্রাণ বাঁচিয়েছেন। বনদপ্তরের দাবি, ডলফিন বাঁচাতে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে। তার সুফল পাওয়া গিয়েছে। মৎস্যজীবীরা প্রাণীটিকে জলে ছেড়ে দিয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। এডিএফও সৌগত মুখোপাধ্যায় বলেন, অনেক সময় মৎস্যজীবীদের জালে ডলফিন জড়িয়ে গিয়ে মারা যায়। মৎস্যজীবীরা সচেতন থাকলে প্রাণীটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়। জামালপুরের মৎস্যজীবীদের তারিফ করতে হয়। প্রত্যেকেরই উচিত প্রাণীটিকে বাঁচানো।

Advertisement

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন কারণে গঙ্গায় এই প্রাণীটির সংখ্যা কমে গিয়েছে। বহু মৎস্যজীবী কারেন্ট জাল ব্যবহার করেন। এই জালে ডলফিন জড়িয়ে গেলে তাকে বাঁচানো চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। কাটোয়া এবং মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় এর আগে মৃত ডলফিন উদ্ধার হয়েছে। তবে এদিন জীবিত অবস্থায় ডলফিন উদ্ধার হওয়ায় খুশি পরিবেশপ্রেমীরা। জামালপুরের বাসিন্দা বৈদ্যনাথ মণ্ডল বলেন, বহুদিন পর দামোদরে ডলফিন দেখা গেল। সেটিকে দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়ে। ডলফিনের ছবি ক্যামেরাবন্দি করার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। মৎস্যজীবীরা বলেন, জালে কী জড়িয়েছে, সেটা প্রথমে বোঝা যায়নি। মনে হয়েছিল, কোনও বড় মাছ পড়েছে। পরে জাল পাড়ে টেনে তুলতেই ডলফিনের দেখা মেলে। মুহূর্তে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঝনদীতে নিয়ে গিয়ে ডলফিনটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেটির শরীরে কোথাও আঘাত লাগেনি। প্রাণীটিকে ডাঙায় তোলা হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, আগে নদীতে হামেশাই ডলফিন দেখা যেত। এখন দামোদরে আর তার দেখা মেলে না। তবে ভাগীরথীতে মাঝেমধ্যে ডলফিন দেখতে পাওয়া যায়। বনদপ্তর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় ডলফিন বা শুশুককে বাঁচাতে আগামী দিনেও লাগাতার প্রচার করা হবে। এই প্রাণীটির উপর চোরাকারবারিদেরও নজর রয়েছে। বাংলাদেশেও তা পাচার করা হয়। অনেকের ধারণা, এই প্রাণীর চর্বি থেকে যৌন অসুখের ওষুধ তৈরি হয়। সেই কারণেই পাচারকারীরা এদের টার্গেট করে। পাচারকারীদের উপর নজর রাখার জন্যও বিশেষ টিম রয়েছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলায় পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে।
এডিএফও বলেন, একটু চেষ্টা করলে এই প্রাণীটির সংখ্যা আরও বাড়ানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে জামালপুর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রাণীটিকে বাঁচাতে মৎস্যজীবীদের সবথেকে বেশি সক্রিয় হতে হবে। জালে জড়িয়ে যাওয়ার পর সঠিক সময়ে জলে ছেড়ে দিতে পারলেই প্রাণীটি বেঁচে যাবে। জামালপুরে উদ্ধার হওয়া ডলফিনটি পূর্ণবয়স্ক ছিল।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ