Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাম বিভ্রাট, এসআইআর আতঙ্কে এফিডেভিট করতে ভোর থেকে আদালতে জমছে ভিড়

সিউড়িতে জেলা আদালতে এফিডেভিট করানোর জন্য রাত দুটো-তিনটে থেকে লাইন দিচ্ছেন মানুষ। গত কয়েকদিন ধরেই চলছে এই কাণ্ড।

নাম বিভ্রাট, এসআইআর আতঙ্কে এফিডেভিট করতে ভোর থেকে আদালতে জমছে ভিড়
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০১
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, সিউড়ি: সিউড়িতে জেলা আদালতে এফিডেভিট করানোর জন্য রাত দুটো-তিনটে থেকে লাইন দিচ্ছেন মানুষ। গত কয়েকদিন ধরেই চলছে এই কাণ্ড। এসআইআরের শুনানির নথি জোগাড় করতেই এই ভিড় বলে জানা গিয়েছে। রাত জেগে লাইন দেওয়া মানুষদের বক্তব্য, এসআইআরের জন্যই তাঁদের এই দুর্ভোগ। 

Advertisement

এদিন রাত তিনটের সময়ে সিউড়িতে এসে হাজির হন সিউড়ি ১ ব্লকের আলুন্দা গ্রামের বাসিন্দা আনসার শেখ। তিনি টোটো চালান। আলুন্দ পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রাম থেকে তিনজনকে নিয়ে হাজির হয়েছেন এভিডেভিট করানোর জন্য। কারণ তাঁদের কারও নিজের নামের বানান ভুল আছে, তো কারও বাবার নামে ভুল রয়েছে। তাঁরা শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। সেখানেই নথি হিসেবে কাজে লাগবে এভিডেভিট। একই কারণে সিউড়ির কড়িধ্যা এলাকার বাসিন্দা সারথি মালও এসেছেন। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টের নামের সঙ্গে তাঁর নামে ফারাক রয়েছে। তিনিও শুনানির জন্য ডাক পেয়েছেন। তাই তাঁরও প্রয়োজন এফিডেভিটের। এদিন ভোর তিনটে নাগাদ তাঁর নাতি এফিডেভিটের লাইনে দাঁড়িয়ে নাম লিখিয়েছেন। অন্যদিকে, সিউড়ি ২ ব্লকের কেন্দুয়া পঞ্চায়েতের মোনপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গির খান তাঁর স্ত্রীর নামের এফিডেভিট করাতে ভোর থেকে লাইন দিয়েছেন। টানা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লাইন দিয়ে তাঁরা এফিডেফিট করিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। জেলা আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশন এবং এফিডেভিট করতে আসা মানুষদের থেকে জানা গিয়েছে, সিউড়ি আদালতের আগে যেখানে এভিডেভিড হতো, সেই বিল্ডিং ভগ্নপ্রায়। তাই এখন জেলাশাসকের দপ্তরে এভিডেভিট হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এখন প্রতিদিন ৬০ জনের এভিডেভিট করা হচ্ছে সেখানে। স্বাভাবিকভাবেই সেই ৬০ জনের মধ্যে থাকতে সবাই চেষ্টা করছেন আগে এসে লাইন দিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, এসআইআরের জন্য মানুষকে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। একেই এত ঠান্ডা, তারপরেও মানুষ মাঝরাত থেকে লাইন দিচ্ছেন। মানুষের কতটা আতঙ্কিত হলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয় সেটা ভাবুন। জেলা আদালতের আইনজীবীদের থেকে জানা গিয়েছে, এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকে ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত মানুষ ভোরবেলা কিম্বা সাত সকালে লাইন দিচ্ছিল। কিন্তু এখন মাঝরাত থেকে এসে লাইন দিচ্ছেন অনেকে। জেলা আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের সহকারী সাধারণ সম্পাদক গোলাম মিনহাজউদ্দিন বলেন, এসআইআরের জন্য ভিড় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। যাতে আরও বেশি সংখ্যক এফিডেভিট করা হয় তার জন্য আমরা সিজিএমের কাছে আবেদন করেছিলাম। আমরা দরকারে আবার বিষয়টি নিয়ে তাঁর দ্বারস্থ হব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ