ঢাকা: খালেদা জিয়ার মরদেহ তখনও সংসদ ভবনে শায়িত। সংসদ সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তখন আক্ষরিক অর্থেই জনসমুদ্র। যতদূর দেখা যায় শুধুই মানুষের কালো মাথা। বিএনপি নেত্রীকে শেষবার দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। সেই জনসমুদ্রের সামনেই ২০২৫ সালের শেষদিনে ঢাকার জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হল খালেদার শেষকৃত্য। তার সঙ্গেই শেষ হল বাংলাদেশের রাজনীতির একটি অধ্যায়েরও।
বুধবার সকালে খালেদার মরদেহ বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে করে হাসপাতাল থেকে গুলশনে ছেলে তারেক রহমানের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির। তারেকের বাড়িতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খালেদাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। দুপুরে খালেদার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধর্মীয় রীতি মেনে ‘জানাজা’ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই সংসদের মাঠ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় উপচে পড়ে বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষদের ভিড়। উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিবারের সদস্যরাও। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এদিন লক্ষাধিক মানুষ ঢাকায় এসেছিলেন।
জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস, জামাত-ই-ইসলামির প্রধান শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ছিলেন বাংলাদেশ সেনার তিন বাহিনীর প্রধান। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সর্দার আয়াজ সাবিক, ভুটানের বিদেশমন্ত্রী ডি এন ধুনগিয়েল, মালদ্বীপের শিক্ষামন্ত্রী আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের বিদেশমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ। জানাজা শেষে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে খালেদার মরদেহ সংসদ ভবন থেকে জিয়া উদ্যানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে খালেদার কফিন কাঁধে তুলে নেন সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। সেনাবাহিনীর তরফে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে। জিয়া উদ্যানে স্বামী তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমানের পাশেই খালেদাকে সমাধিস্থ করা হয়। ছবি: পিটিআই ও এএফপি