Bartaman Logo
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি শুরু হতেই ভিড় উপচে পড়ল পুরসভায়

দীর্ঘ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর কৃষ্ণনগর পুরসভায় ফের শুরু হয়েছে ম্যানুয়াল থেকে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট করার প্রক্রিয়া

ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি শুরু হতেই ভিড় উপচে পড়ল পুরসভায়
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: দীর্ঘ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর কৃষ্ণনগর পুরসভায় ফের শুরু হয়েছে ম্যানুয়াল থেকে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট করার প্রক্রিয়া। পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কৃষ্ণনগর শহর ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে পুরসভায় ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে ম্যানুয়াল বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাল করার প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছিলেন বহু পরিবার। পরিষেবা বন্ধ থাকায় অনেকেই একাধিকবার পুরসভায় এসে খোঁজ নিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন। ফলে ফের পরিষেবা চালু হওয়ার খবর পেতেই আর দেরি না করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে পুরসভায় হাজির হচ্ছেন তাঁরা। সোমবার পুরসভা চত্বরে দেখা যায়, সকাল থেকেই একের পর এক আবেদনকারী লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই লাইন আরও দীর্ঘ হয়। সকলের হাতেই ছিল পুরনো ম্যানুয়াল বার্থ সার্টিফিকেট এবং ডিজিটাল করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। প্রখর রোদের মধ্যেও পরিষেবা নেওয়ার আশায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাঁদের।

Advertisement

আবেদনকারীদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের আধার কার্ড তৈরি এবং স্কুলে ভর্তির সময় এই নথির প্রয়োজনীয়তা সামনে আসছে। তাঁদের কথায়, ‘অনেকদিন ধরে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটের কাজ বন্ধ থাকায় খুব সমস্যায় পড়েছিলাম। এর আগে বেশ কয়েকবার পুরসভায় এসে খোঁজ নিয়ে গিয়েছি। কিছুদিন আগে সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পারি যে ফের ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। তাই আর দেরি না করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আবেদন করতে এসেছি।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যানুয়াল বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাল করার জন্য সাদা কাগজে মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে। তার সঙ্গে জমা দিতে হবে ম্যানুয়াল বার্থ সার্টিফিকেটের ফটোকপি এবং বাবা ও মায়ের আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের ফটো কপি। প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পুরসভার তরফে বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাল করার কাজ করা হবে। চাপড়া থেকে এসেছেন আমিনা বিবি। তিনি বলেন, ছোট মেয়ের আধার কার্ড করতে হবে। অফিস থেকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট করার কথা জানিয়েছে। এখন সব কাজ করতেগেলেই তো আধার কার্ড প্রয়োজন। তাই আধার কার্ড করার জন্যই বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাল করতে এসেছি। কিন্তু যা ভিড় দেখছি। আজ ফর্ম তুলে লিখে জমা দিতে পারব কিনা বুঝতে পারছি না।
আরও এক আবেদনকারী সায়ন মোদক বলেন, ক’দিন আগেই জানতে পেরেছি ডিজিটাল সার্টিফিকেট হচ্ছে। তাই করতে এসেছি। কখন কোন কাজে চেয়ে বসবে তার তো ঠিক নেই। আর সঙ্গে সঙ্গে তো পাওয়া যাবে না, বেশ কিছুটা সময় লাগে। তাই আগেই করে রাখছি। 
ম্যানুয়াল বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাল করার কাজ ফের শুরু হওয়ায় বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। তবে আবেদনকারীর ভিড় বাড়ায় দ্রুত পরিষেবা দেওয়াই এখন পুরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ