নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী বন্দনা মূলত একদিনের হয়ে থাকে। বহু বছর ধরেই বিশেষ ঐতিহ্য বহন করে আসছে এই পুজো। নবমীর দিন দেবীর আরাধনা, মণ্ডপে মণ্ডপে পুজো ও রাতভর ঠাকুর দেখা। জগন্মাতার এই একদিনেরই পুজো তামাম কৃষ্ণনগরকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। চন্দননগরের পুজোর ধারা থেকে এই শহরের পুজো স্বতন্ত্র। কিন্তু চলতি বছর সেই দীর্ঘদিনের প্রথায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। সপ্তমী ও অষ্টমীর রাতে শহরের রাস্তা, মণ্ডপ, আলোকসজ্জা আর ভক্তদের উন্মাদনা যেন জানিয়ে দিচ্ছে, একদিনের সীমা পেরিয়ে এখন কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোও ধীরে ধীরে সপ্তাহভর উৎসবের চেহারা নিচ্ছে।
এবছর ষষ্ঠীর সন্ধ্যা থেকেই শহরের বেশ কিছু পুজো কমিটি উদ্বোধন পর্ব সেরে ফেলে। তবে সপ্তমীর রাত নাগাদ শহরের আবহ পুরোপুরি বদলে যায়। বিভিন্ন পুজো কমিটির জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের পাশাপাশি রাজপথে মানুষের ঢল, চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায় ঝলমল করে শহরের প্রতিটি কোণ। ঘূর্ণি, রাধানগর, বউবাজার, আমিনবাজার, বাঘাডাঙা প্রায় সব পুজো কমিটিই সেদিন থেকেই উৎসবে মেতে উঠেছে এবার। কেউ থিমের সৌন্দর্য দেখতে এসেছেন তো কেউ আবার প্রতিমার কারুকার্য ক্যামেরায় বন্দি করছেন। নবমীর অপেক্ষা না করেই সপ্তমীর রাতে শহরে মানুষের ঢল নামতে দেখা গেল এবছর।
রাধানগর অন্নপূর্ণা বারোয়ারির পুজো উদ্যোক্তা রিপন দত্ত বলেন, আমাদের মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে গিয়েছে। সপ্তমীর রাতেই দর্শনার্থীদের ভিড় হয়েছিল। মানুষের খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি।
আবার অষ্টমীর সকাল থেকেই ষষ্ঠীতলা, ঘূর্ণি, চাষাপাড়া প্রতিটি এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে দর্শনার্থীদের। কোথাও ডাকের সাজ তো কোথাও শোলার কারুকাজ। আবার কোথাও সোনার গয়নায় দেবীমূর্তিকে সাজানো হয়। তবে অষ্টমীতে বেলার দিকে কৃষ্ণনগর শহরে বৃষ্টি হওয়ায় পুজোর উন্মাদনায় খানিক ভাটা পড়ে। কৃষ্ণনগর শহরের বাসিন্দা প্রীতম রায় বলেন, আমাদের শহরে কয়েকশো জগদ্ধাত্রী পুজো হয়। এক রাতে সব ঠাকুর দেখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আমরা এখন বন্ধুরা মিলে সপ্তমী থেকেই ঠাকুর দেখি। একসময়ের একদিনের পুজো এখন রূপ নিচ্ছে তিন দিনের উৎসবে।