নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: আর কয়েকদিনের মধ্যেই উত্তরবঙ্গে জাঁকিয়ে শীত পড়বে। প্রায় তিন মাস ধরে হাড় কাঁপানো শীতকে মোকাবিলা করার জন্য রাসমেলা যেন প্রস্তুতি পর্ব। তাই রাসমেলার হিট আইটেম শীতবস্ত্র। হাজার হাজার মানুষ রাসমেলায় আসছে আর নিজেদের সামর্থ মতো শীতবস্ত্র কিনছে। সব থেকে মজার বিষয় হল ১০০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকার শীতবস্ত্রের সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে রাসমেলায়। শীতবস্ত্র বিক্রির জন্য আলাদা একটা এলাকাই রয়েছে।
মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণ মেডিক্যাল কলেজের দিক দিয়ে ঢুকলে দেখা যাবে রাস্তার দু’পাশ দিয়ে বসেছে শীতবস্ত্রের দোকান। চাদর, সোয়েটার, জ্যাকেট, টুপি, শাল থেকে শুরু করে যত রকমের শীতের বস্ত্র রয়েছে সবই পাওয়া যাচ্ছে সেখানে। এরপর জেনকিন্স মোড় পেরিয়ে কিছুটা বাঁ দিকে এগলেও প্রচুর দোকান বসেছে। যেখানে খুব কম দামে পাওয়া যাচ্ছে মেয়েদের নানা ধরনের শীতবস্ত্র। রীতিমতো দরদাম করে সেই সব বস্ত্র কিনতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর মানুষ ভিড় জমাচ্ছে।
এদিকে, রাসমেলার অপর প্রান্তে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে আসা অপূর্ব কারুকার্য খচিত কাঠের আসবাবপত্র বিক্রি হচ্ছে। যেখানে ৩০ টাকার সামগ্রী থেকে শুরু করে প্রায় দেড় লক্ষের সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড়ও। খাট, ড্রেসিং টেবিল, দোলনা, বড় বড় ফ্লাওয়ার ভাস, চেয়ার, টেবিল থেকে শুরু করে কাঠের চামচ, ছোট বাক্স, কাঠের কারুকার্য খচিত আয়না সহ নানা সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। দেশবন্ধু মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় বসেছে কার্পেটের দোকান। সেখানে সুন্দর নকশা তোলা কার্পেট বিক্রি হচ্ছে। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে তালমিল রেখে দেদার বিক্রি হচ্ছে সেই সব কার্পেটও।
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি রাসমেলায় শীতবস্ত্র দেদার বিক্রি হয়। সেই ধারা এখনও চলছে। এই সব ব্যবসায়ীরা সারা বছর ধরেই রাসমেলার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। প্রতিবছরই এখানে ভালো বিক্রি হয়। এবার এসবের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
রাসমেলার মাঠের ভিতরে ঢুকলেও দেখা যাচ্ছে বড় বড় স্টলের ভিতরে ঠাসা শীতবস্ত্র। ব্লেজার থেকে শুরু করে মেয়েদের শীতের কার্ডিগান সবই মিলছে। এসবের দামও বেশ সস্তা। তবে আগে ভাগেই গায়ে পরে দেখে নিতে হবে। যাতে তা ঠিকঠাক থাকে।
নিজস্ব চিত্র।