নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাদুড়িয়ায় রেল চাই। চাঁপাপুকুর থেকে বাদুড়িয়া হয়ে হাবড়া পর্যন্ত নতুন রেলপথ তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের। রাজ্যে পালাবদলের পর এই দাবি নিয়ে ফের সরব হয়েছেন এই অঞ্চলের বাসিন্দারা। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, এই রেল সংযোগ তৈরি হলে উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অংশের মধ্যে যাতায়াতের ছবিটাই বদলে যেতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এনিয়ে সরব হয়েছে আম জনতা।
বর্তমানে বাদুড়িয়া শহর এবং সংলগ্ন এলাকার বহু মানুষকে ট্রেনে উঠতে হলে সড়কপথে অন্য স্টেশনে যেতে হয়। গোবরডাঙা, ভ্যাবলা কিংবা বসিরহাট— এই স্টেশনগুলির উপর নির্ভর করতে হয় তাঁদের। বাংলাদেশ সীমান্তের এলাকা বলে পরিচিত বাদুড়িয়া। স্বাভাবিকভাবে বাস, অটো বা টোটো করে স্টেশনে পৌঁছে তারপর ট্রেন ধরতে হয়। ফলে বাড়তি সময় এবং খরচ দু’টোই গুনতে হয় মানুষকে। স্থানীয়দের দাবি, চাঁপাপুকুর থেকে বাদুড়িয়া হয়ে হাবড়া পর্যন্ত রেলপথ হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে। এর ফলে শুধু বাদুড়িয়ায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে না, সেইসঙ্গে বসিরহাট মহকুমার একটি বড়ো অংশের সঙ্গে বিকল্পপথে হাবড়ার যোগাযোগ তৈরি হবে। এরপর হাবড়া হয়ে কলকাতা বা বনগাঁর দিকে সহজে যেতে পারবেন যাত্রীরা।
বাদুড়িয়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা মূলত কৃষিনির্ভর। ধান, পাট, শাক-সবজি সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন হয় সেখানে। স্থানীয় বাসিন্দা রঘু দাসের বক্তব্য, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে কম খরচে দ্রুত কৃষিপণ্য বাজারে পাঠানো সম্ভব হবে। লাভবান হবেন চাষি এবং ব্যবসায়ীরা। কলেজ পড়ুয়া দেবস্মিতা মিদ্দার কথায়, কলকাতায় যেতে হয় পড়াশোনার জন্য। রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে আমাদের যাতায়াত করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। বাদুড়িয়ায় রেলের দাবি দীর্ঘদিনের। নতুন সরকারের কাছে আমাদের এটাই দাবি। ব্যবসায়ীদের মতে, সরাসরি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলে কলকাতা ও জেলার অন্যান্য বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। তবে রেললাইন তৈরির ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ একটি বড়ো প্রশ্ন। প্রস্তাবিত রেলপথের উপর ঘনবসতি এবং কৃষিজমি রয়েছে। কোথা দিয়ে লাইন যাবে, কতটা জমি লাগবে, কোথায় সেতু বা অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে— তার জন্য প্রাথমিক সমীক্ষা জরুরি। তাই এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, চাঁপাপুকুর-বাদুড়িয়া-হাবড়া রুট নিয়ে সমীক্ষা করুক রেল। স্থানীয়দের বক্তব্য, এই দাবির কথা রেল মন্ত্রক ও রেল বোর্ডের কাছে তুলে ধরা উচিত জনপ্রতিনিধিদের।