সংবাদদাতা, বোলপুর: বছরের শীতলতম দিনে জমে উঠল শান্তিনিকেতনে পৌষ মেলা। এদিন সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গায় পর্যটকদের দেখা যায়। শুক্রবার বেলা গড়াতেই মানুষের ঢল নামে মেলায়। সপ্তাহ শেষের আগে বিপুল পর্যটকের ভিড়ে কেনাকাটা বাড়ায় খুশি ব্যবসায়ীরাও। মেলার বাকি দু’দিন আরও ব্যবসা ভালো হবে বলেই মত তাঁদের।
উল্লেখ্য, পৌষ মেলার চতুর্থ দিনে বিনোদন মঞ্চে একাধিক অনুষ্ঠান ছিল।এদিন সকাল থেকেই বাউল-ফকির-কীর্তন গান, ভাওয়াইয়া, সারিগান, মহিলা ঢাকিদের ঢাক বাদন, লোকসংস্কৃতির একাধিক অনুষ্ঠান হয়। যাত্রাপালার মধ্য দিয়ে এই বছরের পৌষ মেলায় বিনোদন মঞ্চে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। বাঁকুড়ার সোনামুখী থেকে আগত শান্তনু লাহা জানান, এখানের মেলায় বড় আকর্ষণ বাউল গান সহ একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন লোকসংস্কৃতি এখানে দেখতে পাই। এই কারণেই এসেছি। এদিন রাত অবধি বিনোদন মঞ্চের সামনে দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে, মেলা উপলক্ষ্যে বোলপুর - শান্তিনিকেতনে সব হোটেল, হোম-স্টে-র বুকিং অনেকদিন আগেই পূর্ণ ছিল। ছ’দিনের মেলায় তিন দিন করে প্যাকেজের ব্যবস্থাও দেখা গিয়েছে। সেই কারণে প্রথম তিন দিনের পর প্রচুর পর্যটকদের আগমন ঘটে মেলায়। আবার সপ্তাহান্তের শেষ আরও বেশি পর্যটক সমাগম ঘটছে বলে জানান হোটেল ব্যবসায়ীরা। মেলার দিনগুলিতে বাড়তি যাত্রীর চাপ সামাল দিতে চলেছে বিশেষ ট্রেন। হাওড়া–বোলপুর রুটের এই স্পেশাল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত চলবে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে।
এদিন মেলায় বিশ্বভারতীর প্রদর্শনী, কলা ভবনের ছাত্র, ছাত্রীদের তৈরি হাতের কাজের স্টল, শিশুবান্ধব কর্ণার, সরকারি হস্তশিল্পের স্টলের মতো জায়গায় ভালোই ভিড় ছিল। বাউল মঞ্চের পাশে ও পিছনে ফুটপাতে বসা হস্তশিল্পীদের স্টলেও অন্য দিনের তুলনায় বিক্রি ভালো হয়েছে বলে জানা যায়।
এমনকি শান্তিনিকেতন পৌষ মেলায় প্রতি বছর একাধিক সংস্থার স্টল হাজির হয়। সেখানে রান্নার মশলা, কাপড় কাচার সাবান গুঁড়ো, ধূপকাঠি , চানাচুর, বিস্কুটের পাশাপাশি নানান প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়। এসব স্টলে মেলার সময় ছাড় পাওয়া যায়। সেই সুযোগে প্রচুর মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নেন।
এদিকে, ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুরি, ছিনতাই সন্দেহে গত চারদিনে প্রায় ২০০ জনকে আটক ও ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিন মেলার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের তরফে মেলার মাঠ পরিদর্শন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বোলপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রিকি আগরওয়াল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের টিম সারাক্ষণ সক্রিয় ছিল বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সাজাবো যতনে। নিজস্ব চিত্র