নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: চালু হওয়ার প্রথম দিনেই সকাল ৭টার পাঁশকুড়া-দীঘা ইএমইউ স্পেশালে উপচে পড়ল ভিড়। সকালবেলা দীঘাগামী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। সকাল ৮টায় মেচেদা-দীঘা লোকাল ছাড়া সকালের দিকে লোকাল ট্রেন নেই। তাও অধিকাংশ দিন মেচেদা-দীঘা লোকালে ভিড় ঠেলে ওঠা সম্ভব হয় না। টিকিট কেটেও ট্রেনে উঠতে না পেরে প্রায়ই তমলুক, নন্দকুমার, লবণ সত্যাগ্রহ স্টেশনে যাত্রী বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে দক্ষিণ-পূর্ব রেল ২৫ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত সকাল ৭টায় একটি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার থেকেই সেই পরিষেবা চালু হল। একাধিক যাত্রী সংগঠন ও পর্যটকের দাবি, সকালের এই ট্রেন রেগুলার করা হোক। তাহলে দীঘা যাওয়ার ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। সকালে এক ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া লোকাল ট্রেন থাকলে দীঘা যাওয়া অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে।
বুধবার সকাল ৭টায় পাঁশকুড়া থেকে দীঘা যাওয়ার ওই ইএমইউ স্পেশাল ট্রেন ছাড়ে। রেলের পক্ষ থেকে অবশ্য এনিয়ে স্টেশনগুলোতে প্রচার হয়নি। তা সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে অনেকেই এই স্পেশাল ট্রেনের কথা জেনেছেন। তাই সকালেই দীঘা যাওয়ার ওই ট্রেনে বেশ ভিড় হয়। যাত্রীরা অনেকটাই স্বাচ্ছন্দ্যে দীঘা পৌঁছে যান। লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক স্টেশনের টিকিট বুকিং এজেন্ট ভরতচন্দ্র দাস বলেন, আমাদের স্টেশনে প্রায় ৬৫ জন টিকিট কেটে ওই ট্রেনে চড়েন। সকালের এই ট্রেন পরিষেবা রেগুলার করলে দীঘাগামী পর্যটকদের ভীষণ সুবিধা হবে।
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-জকপুর প্যাসেঞ্জার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অজয়কুমার দোলুই বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দীঘাগামী সকালে একটি লোকাল চালুর দাবি তুলেছি। আপাতত রেল ২৫ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ট্রেনটি সবসময়ের জন্য চালু থাকলে যাত্রীদের ভীষণ সুবিধা হবে। এনিয়ে রেলের কাছে আমরা আর্জি জানিয়েছি।
পাঁশকুড়া-হলদিয়া-দীঘা সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সরোজ ঘড়া বলেন, সকাল ৭টার পাঁশকুড়া-দীঘা স্পেশাল নিয়মিত হলে দীঘা লাইনে যাত্রী দুর্ভোগ অনেকটাই মিটবে। দুপুরের স্পেশাল ট্রেন আর হয়তো বেশিদিন চলবে না। আমরা চাই, সকালের স্পেশালটি নিয়মিত করা হোক। এই মর্মে রেলের কাছে আমরা আবেদন জানাব। বুধবার ওই ট্রেনে চড়ে দীঘা রওনা দিয়েছিলেন পাঁশকুড়ার প্রতাপপুরের রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পেশায় প্রাইমারি শিক্ষক রণজিৎবাবু বলেন, জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই সকালে মেচেদা-দীঘা ট্রেনে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করছি। ভিড় ঠেলে ওঠা যায় না। সকাল ৭টার এই ট্রেন সবসময়ের জন্য থাকলে দীঘা যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে। আশা করব, রেল বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করবে। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, সড়কপথে প্রাইভেট গাড়ির চাপ অনেক বেড়েছে। যে কারণে ১১৬বি জাতীয় সড়কে প্রায়ই যানজট হচ্ছে। এই অবস্থায় বহু পর্যটক রেলের উপর ভরসা করেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখে সকাল ৭টার স্পেশাল ট্রেনটিকে নিয়মিত করার কথা ভাবুক রেল কর্তৃপক্ষ।