Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্রাবণের শেষ সোমবারে ব্যাসপুর কপিলেশ্বর মন্দিরে ভক্তদের ভিড়

শ্রাবণের শেষ সোমবার কাশিমবাজারের ব্যাসপুর কপিলেশ্বর মন্দিরে বিশাল ভক্তসমাগম দেখা গেল।

শ্রাবণের শেষ সোমবারে ব্যাসপুর কপিলেশ্বর মন্দিরে ভক্তদের ভিড়
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: শ্রাবণের শেষ সোমবার কাশিমবাজারের ব্যাসপুর কপিলেশ্বর মন্দিরে বিশাল ভক্তসমাগম দেখা গেল। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই ভক্তরা লাইন দিতে শুরু করেন। মাঝরাতেই সেই লাইন কাশিমবাজার রেলগেট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সোমবার ভোর ৪টে থেকে জল অভিষেকের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়। দিনভর সুশৃঙ্খলভাবে দুধ, গঙ্গাজল, বেলপাতা সহ নানাবিধ উপাচারে ভক্তরা প্রচীন শিবলঙ্গে জলাভিষেক করেন। এবার ভক্তসমাগম বিগত সমস্ত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

Advertisement

মন্দির কমিটির সভাপতি সঞ্জীব রায় বলেন, ব্যাসপুর কপিলেশ্বর মন্দিরের মাহাত্ম্য সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আগে কোনওদিন এত ভক্তসমাগম দেখিনি। কমিটির সদস্যরা সারারাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে ভক্তদের পরিষেবা দিয়েছেন। 
কাশিমবাজার স্টেশন লাগোয়া এই মন্দিরের চোখধাঁধানো শিল্পশৈলী দেখে মানুষ অভিভূত। শিবলিঙ্গটির উচ্চতা পাঁচ ফুটের কিছু বেশি। শিবলিঙ্গের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নির্দিষ্টভাবে জানা নেই। তবে জনশ্রুতি, শিবলিঙ্গটি ১৮১১ সালে ব্যাসপুরের বিখ্যাত পণ্ডিত কৃষ্ণনাথ ন্যায়পঞ্চাননের পিতা রামকেশর দেবশর্মা এখানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে নিত্যপুজো শুরু করেন। এরপর ১৮৯৮সালে লালগোলার মহারাজ যোগীন্দ্র নারায়ণ রাও ফের মন্দিরটি সংস্কার করেন। পরে আর একবার সংস্কার হলেও প্রাচীন স্থাপত্যের গরিমা অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে শ্রাবণমাসজুড়ে শ্রাবণী উৎসব হয়। মন্দির ঘিরে একমাসব্যাপী মেলা বসে। মহা শিবরাত্রিতেও মেলা হয়।
এদিন ভক্তরা বহরমপুরে ভাগীরথী নদী থেকে জল নিয়ে হেঁটেই ব্যাসপুর মন্দিরে আসেন। মন্দির কমিটির সম্পাদক শুভাশিস রায়চৌধুরী বলেন, ব্যাসপুর এই জেলার অন্যতম প্রাচীন মন্দির। এই মন্দিরের ঐতিহ্য ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের। গতবছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণের বেশি ভক্তসমাগম হয়েছে। ভক্তদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই বেশি ছিল।
জল অভিষেকের পর মন্দির কমিটির তরফে ভক্তদের পরমান্ন প্রসাদ ও জলের বোতল দেওয়া হয়। সন্ধ্যা আরতির পর সমস্ত ভক্তকে প্রসাদ বিলি করা হয়। এছাড়া কুপনের মাধ্যমে বহু ভক্তকে মালসাভোগ দেওয়া হয়েছে। মালসাভোগে খিচুড়ি, আলুর দম ও লাড্ডু ছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ