Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মোদির ভাষণের মাঝেই সভা ছাড়ল ভিড়, লোক আনতে ভিআইপি পাসের ‘ম্যাজিক’

সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা নিয়ে আগেই দলীয় বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছিল। রবিবার সভাতেও বিশৃঙ্খলাই দেখা গেল।

মোদির ভাষণের মাঝেই সভা ছাড়ল ভিড়,  লোক আনতে ভিআইপি পাসের ‘ম্যাজিক’
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিঙ্গুর: সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা নিয়ে আগেই দলীয় বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছিল। রবিবার সভাতেও বিশৃঙ্খলাই দেখা গেল। তিন তিনটি তাঁবু খাটালেও প্রধানন্ত্রীর তাঁবুর দিকেই সকলের নজর ছিল। তাই দফায় দফায় ভিড় সেখানেই যাওয়ার চেষ্টা করেছে। আর তাতেই সভায় একাধিকবার বিশৃঙ্খলা হয়েছে। তবে এনিয়ে সমস্যা বিশেষ হয়নি। কারণ, প্রধানমন্ত্রীকে মঞ্চে একবার দেখার পরেই সব মঞ্চেরই ভিড় পাতলা হতে শুরু করেছিল। বাড়ির পথ ধরা বিজেপি সমর্থকরা পরিষ্কার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা নয়, তাকে দেখাটাই মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল।

Advertisement

সিঙ্গুরের সভায় ভিড় হয়েছিল। কিন্তু তার পিছনেও ছিল ‘ম্যাজিক’। মুখে হাওড়া ও হুগলি জেলাকে নিয়ে সভা করা হয়েছে বলে নেতৃত্ব দফায় দফায় দাবি করেছেন। কিন্তু বাস্তবে বাঁকুড়া, বর্ধমান থেকেও লোক আনা হয়েছিল। এমনকি কলকাতা, গড়িয়া থেকেও আনা হয়েছিল কর্মীদের। গড়িয়া থেকে এসেছিলেন বাবলু অধিকারী। প্রথমে বেশকিছু সমর্থক এসেছেন বলে জানালেও পরে পরিস্থিতি ঠাহর করে বলেন, আমরা তিনজন এসেছি। আর বাঁকুড়ার সুমন পাত্র বলেন, গাড়ি দেওয়া হয়েছিল। সভায় এসেছিলাম। অসুবিধা কোথায়?

আর ছিল প্রায় হাজার চল্লিশ ‘ভিআইপি পাস’-এর ম্যাজিক। বসার জন্য চেয়ার, মোদিজিকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে যত্রতত্র বিলি করা হয়েছিল ভিআইপি পাস। আর সেই পাশধারীদের জন্যই বরাদ্দ করা হয়েছে তিনটি তাঁবুর সবচেয়ে বড়োটা। তাতেও অবশ্য ভিড় ধরে রাখা যায়নি। সভার একবারে শেষপর্বে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর ডাকেও স্লোগান তোলার আওয়াজ জোরাল শোনা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সভা নিয়ে উৎসাহ হারানো ও ভিড়ের থিতু না-হওয়ার নমুনা সেখানেই মিলে গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বিপুল সংখ্যায় গাড়ি ব্যবহার করেছে বিজেপি। সভায় আগত ‘সমর্থক’দের জন্য যত বড়ো জায়গা বরাদ্দ ছিল তার তিনগুণ এলাকাজুড়ে ছিল বাস, ছোট থেকে মাঝারি গাড়ি রাখার জায়গা। কলকাতা থেকে যাদবপুর, হাওড়া থেকে বাঁকুড়া, বর্ধমান, সমস্ত রুটের বাসের জমায়েত এদিন সিঙ্গুরের সভার মাঠের পাশে দেখা গিয়েছে। সনাতনীদের সভাকে ঘিরে ভিড় যেমন হয়েছিল তেমনই দেদার ছোটোখাটো পিকনিকের আয়োজন দেখা গিয়েছে। আবার, বেশকিছু মদ্যপ বিজেপি সমর্থকদেরও রাস্তা থেকে সভার মাঠের বিভিন্ন কোণায় পাওয়া গিয়েছে।  গেঞ্জি বিলি থেকে খাবার সরবরাহের বিশৃঙ্খলা, সবই ছিল। শুধু সিঙ্গুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের সভায় বিশেষ দেখা যায়নি। এনিয়ে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ বলেন, ব্যাপক জমায়েত হয়েছে। আর সিঙ্গুরের বুকেই হয়েছে। মোদিজিও তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, এই ভিড় নতুন শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, এদিন ধনেখালি শাড়ি থেকে সিঙ্গুরের আলু, বন্দে মাতরম্‌ থেকে নেতাজি, হুগলি থেকে বাংলাকে তিনি কতটা গুরুত্ব দেন তা প্রমাণের চেষ্টা মোদি করেছেন। কিন্তু সভা ফেরত কট্টর বিজেপি সমর্থকরাই প্রশ্ন তুলেছেন, চুঁচুড়ার বন্দে মাতরম্‌ ভবন বেহাল। ধনেখালির শাড়ি বা সিঙ্গুরের আলুর শুধু কথাই বলা হয়েছে। তা নিয়ে পরিকল্পনার হদিশ মেলেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ