Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্যুটিং হয় বেহুলা লখিন্দর ছবির, ভিড় বাড়ছে ঘাগরা জলপ্রপাতে

বর্ষায় সেজে উঠেছে বেলপাহাড়ী। কালো পাথরে ঘেরা ঘাগরা জলপ্রপাত দেখতে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। ব্রিটিশ আমলে ইংরেজদের প্রিয় পিকনিক স্পট ছিল এই জলপ্রপাত।

শ্যুটিং হয় বেহুলা লখিন্দর ছবির, ভিড় বাড়ছে ঘাগরা জলপ্রপাতে
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বর্ষায় সেজে উঠেছে বেলপাহাড়ী। কালো পাথরে ঘেরা ঘাগরা জলপ্রপাত দেখতে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। ব্রিটিশ আমলে ইংরেজদের প্রিয় পিকনিক স্পট ছিল এই জলপ্রপাত। সত্তরের দশকে জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা বেহুলা লখিন্দরের শ্যুটিং হয়েছিল এখানে। সেই ঘাগরা ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে।

Advertisement

বেলপাহাড়ী বাজার থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে ঘাগরা জলপ্রপাত। জঙ্গলপথে ছোট ছোট গ্ৰাম পেরিয়ে এই এলাকায় পৌঁছতে হয়। স্থানটির পূর্ব দিকে সবুজ ঘাসের গালিচায় মোড়া উপত্যকা। উপত্যকাকে ঘিরে রেখেছে শালবন। উত্তরে পাহাড়ী ঝর্ণা কালো পাথরের উপর আছড়ে পড়ে পূর্ব দিকে বয়ে গিয়েছে। ঘাগরা নামটি এসেছে ‘গাগরা’ থেকে। যার অর্থ জলে ভরা একটি কলসি। গিরিখাতের আকৃতি অনেকটা কলসির মতো। জলপ্রপাতটি কালো পাথরের গিরিখাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বেলপাহাড়ীর নীলকর সাহেব ফ্রেডরিক রাইজ জঙ্গল ভ্রমণের সময়ে ঘাগরা জলপ্রপাতটি খুঁজে পেয়েছিলেন। ব্রিটিশ সাহেবরা তারপর থেকেই এখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন। বিশ শতকের শুরু থেকে ঝাড়গ্ৰামে স্বাস্থ্য উদ্ধার করতে আসা বাঙালিদেরও এখানে পা পড়তে থাকে। সত্তরের দশকে জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা বেহুলা লখিন্দরের কিছু অংশের শ্যুটিং ঘাগরা জলপ্রপাত এলাকায় হয়েছিল। এতে পর্যটনস্থল হিসেবে ঘাগরা জলপ্রপাতের পরিচিতি আরও বেড়ে যায়। পরবর্তীতে একাধিক বাংলা সিনেমার শ্যুটিং এই স্থানে হয়েছে। সিনেমা শ্যুটিংস্থল হিসেবেও জায়গাটিকে গড়ে তোলার দাবি রয়েছে। জলপ্রপাত থেকে তিন কিলোমিটার দূরে তারাফেনি নদী আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হচ্ছে। জঙ্গল, জলপ্রপাত, নদী ঘেরা জনবিরল স্থানটির সৌন্দর্য এখনও একইরকম রয়ে গিয়েছে। শুধু ভ্রমণস্থান হিসেবেই নয়, বেলপাহাড়ী বহু ইতিহাসের সাক্ষী। অরণ্যঘেরা বেলপাহাড়ী ব্রিটিশ সাহেবদের প্রিয় স্থান ছিল। ইংরেজদের বসবাসের বহু চিহ্ন এখনও ছড়িয়ে আছেন। বর্তমান যেখানে ব্লক অফিস ছিল, সেখানে ইংরেজ সাহেবরা ছুটি কাটাতে আসতেন। বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে বিপ্লবীরা ইংরেজদের থাকার জায়গা বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছিল। নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ এলাকায় এখনও রয়েছে। পর্যটকদের কাছে এইসব স্থানের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।  ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, জেলার অন্যতম পর্যটনস্থল বেলপাহাড়ী। বর্ষার মরশুমে বহু পর্যটক এখানে বেড়াতে আসছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত জায়গা দেখার আগ্ৰহ বাড়ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এক দশক আগে পর্যটক আসার সংখ্যা অনেকটাই কমে যায়। বর্তমানে আবার পর্যটদের ভিড়বাড়ছে। প্রশাসনের তরফে পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পর্যটনকে কেন্দ্র করে এলাকায় মানুষের রোজগার বাড়ছে। সিনেমার শ্যুটিংস্থল হিসেবে বেলপাহাড়ীকে গড়ে তোলা হলে পর্যটনের আরও প্রসার হবে। জেলা পুলিস প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ঘাগরা জলপ্রপাত নিরিবিলি এলাকা। বহু পর্যটক এখানে বেড়াতে আসছেন। পুলিস প্রশাসনের টিম এলাকায় নিয়মিত টহল দেয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ