শোভন চন্দ, কলকাতা: শান্ত ধারায় বয়ে চলেছে নদী। সার বেঁধে গন্তব্যের পথে ছোটো ছোটো নৌকা। নদীর বুকের উপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে কয়েক পা হাঁটলে পৌঁছে যাবেন চীনের হেনান প্রদেশের লংমেন গ্রোটোসে। ই নদীর তীরে অবস্থিত একের পর এক গুহা ও পাথরে খোদাই করা শত শত বুদ্ধমূর্তি। শায়িত বুদ্ধকে দেখলেইএক অদ্ভুত প্রশান্তি মেলে। ৫০ তম বছরে ভাস্কর্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন তথা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট লংমেন গ্রোটোসকেই তুলে ধরেছে বেহালার নেতাজি সড়ক আঞ্চলিক অধিবাসীবৃন্দ। এবারের থিম ‘নীরব পাথরগাথা’।
বহুকাল আগের কথা। উত্তরওয়েই রাজবংশের সম্রাট শিয়াও ওয়েনের শাসনকালে দাতং থেকে লুওইয়াংয়ে রাজধানী স্থানান্তরিত হয়। সেই থেকেই লংমেনের কাজ শুরু। ধীরে ধীরে পাথর খোদাই করে এক চোখধাঁধানো রূপ পেয়েছে পুরো এলাকা। সেই বিশাল শিল্পকর্মের কথা মাথায় রেখে মণ্ডপ ও প্রতিমা গড়ে তুলছেন শিল্পী শুভ-শ্রাবণী। তাঁর কথায়,সিল্ক রুট বরাবরভারত-মধ্যএশিয়া হয়ে চীনে পৌঁছায় বৌদ্ধধর্ম ও শিল্পকলা। অজন্তা-ইলোরা থেকে লংমেন গ্রোটোস। ভারত ও চীনকে এক সুতোয় বেঁধেছে বৌদ্ধ সংস্কৃতি। সেই ভাবনাকে সঙ্গী করে চার-পাঁচ মাস ধরে কাজ চলছে। ২৮ হাজার বর্গফুট জুড়ে ছড়িয়ে মণ্ডপ। সিমেন্ট, বালি, প্লাস্টার প্যারিস, রড ও প্রায় ৩০ হাজার ইট দিয়ে গড়ে উঠেছে মণ্ডপ। থ্রিডি ইনস্টলেশনে দেখানো হবে সিল্ক রুটও। পুজোর কর্ণধার রূপা দে জানান, ‘এবারের বাজেট প্রায় ৩৫ লক্ষ। আশা করছি, বৃহৎ পরিসরের মণ্ডপটি দর্শকদের নজর কাড়বে।’
বুদ্ধ দর্শনে মন শান্ত হলে ঢুকে পড়ুন ‘খোয়াব গাঁও’য়ে। প্রাক রজত জয়ন্তী বর্ষে এটাই ২৯ পল্লির থিম। মণ্ডপজুড়ে তুলে ধরা হয়েছে হাজারিবাগের আদিবাসী সম্প্রদায়ের সোহরাই শিল্পকলা। সৃজনে অর্ক চক্রবর্তী ও শ্রেয়শ্রী ব্যানার্জি। তাঁরা জানিয়েছেন, ‘প্রকৃতি ও জীবনকে ভালোবেসে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লালিত হয়ে এসেছে এই শিল্পকলা। আর তা দিয়েই গড়ে তোলা হয়েছে এক ভালোবাসার গ্রাম —খোয়াব গাঁও। যা স্বপ্ন দেখায়। যেখানে আদিবাসী ঐতিহ্য ও আধুনিক নাগরিক মন এক হয়ে যায়। মনে পড়ে শিকড়ের কথা।’
খোয়াব গাঁওয়ের বেড়া পেরিয়ে ডুব দিন গোলকধাঁধায়। ৬১ তম বর্ষে তরুণ মাতৃ সেবক সমিতি তথা কেএফআর গ্রাউন্ডের দুর্গাপুজোর এবারের থিম আবর্ত। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মায়ের মূর্তি গড়ছেন মোহন মণ্ডল। মণ্ডপের পাশেই মাঠজুড়ে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এবারের বাজেট ৪২ লক্ষ। মণ্ডপ শিল্পী সৌভিক কালীর কথায়— এ এক জীবন দর্শন। একইদৃশ্য,অথচ তার ভিতরে অসংখ্য অবস্থান। একজন এগিয়েআসে কেন্দ্রের দিকে, আর একজন দাঁড়িয়ে থাকে দূরে। তবুও অদৃশ্য এক টানে সবাই যেন একই বৃত্তে ঘুরে চলেছে।