নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভালো মুনাফার টোপ দিয়ে চিটফান্ডের কায়দায় কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল আসানসোলের প্রাক্তন কাউন্সিলারের ছেলের বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ, টাকা চাইতে গেলে মহিলাকে মারধর ও হেনস্তা করে প্রাক্তন কাউন্সিলার ও তাঁর ছেলে। কয়েক হাজার মানুষের টাকা লুটের অভিযোগ তুলে বুধবার অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। এদিনই প্রাক্তন কাউন্সিলার সাকিল আহমেদ ও তাঁর ছেলে তাহসিন আহমেদের বিরুদ্ধে আসানসোল উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া জানতে সাকিলকে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। ছেলেরও মোবাইল বন্ধ। তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দল এনিয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। এসিপি বিশ্বজিৎ নস্কর বলেন, আর্থিক প্রতারণার একটি অভিযোগ পেয়েছি। টাকা চাইতে গেলে হেনস্তারও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মহিশীলা এলাকার বাসিন্দা মৌটুসি দত্ত অনেক কষ্ট করে দুই সন্তানকে মানুষ করেছেন। এক লক্ষ টাকা জমা করলে মাসে ১৫হাজার টাকা করে ২০মাস দেওয়া হবে বলে তাঁকে টোপ দেওয়া হয়। তিনি লোভ সামলাতে পারেননি। সোনা বন্ধক রেখে ও নিজের বাবার অবসরকালীন অর্থ ভেঙে ২০লক্ষ টাকা জমা দেন। প্রতি মাসে বিপুল টাকা পাবেন বলে তিনি আশায় ছিলেন। প্রথম কয়েক মাস টাকা পেয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পাচ্ছেন না। এদিন অভিযুক্তের বাড়ির সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৌটুসি। তিনি বলেন, দুই সন্তানকে নিয়ে পথে বসলাম। বাবাকেও পথে বসালাম। আমার মূল টাকা ফেরত চাইতে এসেছিলাম। তখনই বাবা ও ছেলে মিলে আমাকে মারধর করে। থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।
সাকিল প্রথমে বামফ্রন্টের কাউন্সিলার ছিলেন। পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। আসানসোল রেলপাড় এলাকার বাসিন্দারা তাঁকে মাস্টার নামেই চেনেন। তাঁর বাড়ির সামনে কয়েকদিন ধরেই পাওনাদারদের ভিড় লেগে রয়েছে। এদিন এলাকায় কয়েকশো বাসিন্দা ভিড় জমান। বাড়িতেই তাঁর ছেলে তাহসিনের অফিস রয়েছে। বিলাসবহুল অট্টালিকা তৈরি হয়েছে। প্রতারিতদের অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকে টাকা লুট করে এই বাড়ি তৈরি হয়েছে। প্রতারিত প্রাক্তন বিএসএফ অফিসার রবীন্দ্র সিং বলেন, আমার অবসরের সময় পাওয়া অর্থ সহ প্রায় ৪১লক্ষ টাকা ওকে দিয়েছিলাম। আমাকে দেখে বাকিরাও টাকা দিয়েছে। এখন খুবই উদ্বেগে রয়েছি।
কীভাবে টাকা হাতানো হতো? জানা গিয়েছে, নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন অফার দিতেন তাহসিন। ‘দীপাবলি বাম্পার’ অফার ঘোষণা করে জানাত, এক লক্ষ টাকা দিলে মাসে ১২হাজার টাকা করে ২০মাস পাওয়া যাবে। কখনও বলা হতো এক লক্ষ টাকা দিলে ১৫হাজার টাকা করে ২০মাস মিলবে। কেউ যোগাযোগ করলে সে জানাত, ওই টাকা শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ হবে। তা থেকেই বিপুল লাভ পাওয়া যাবে। প্রথম কয়েক মাস টাকা পেয়ে বহু মানুষ লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে থাকেন। এক প্রতারিত বলেন, তিন হাজারের বেশি মানুষের কাছ থেকে কয়েকশো কোটি টাকা লুট হয়েছে। প্রতারিত মহম্মদ তারেক, সুমিত শর্মারা বলেন, আমাদের টাকা ফেরত দেওয়া হোক। নিজস্ব চিত্র