Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নষ্ট ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল, শস্যবিমা পেতে আবেদনপত্র তুলেছেন ৪ লক্ষ চাষি

অতিবৃষ্টি ও নদনদীর জলে মুর্শিদাবাদের ন’টি ব্লক প্লাবিত হয়।

নষ্ট ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল, শস্যবিমা পেতে আবেদনপত্র তুলেছেন ৪ লক্ষ চাষি
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: অতিবৃষ্টি ও নদনদীর জলে মুর্শিদাবাদের ন’টি ব্লক প্লাবিত হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ হাজার হেক্টর চাষের জমি জলের তলায় চলে যায়। তার মধ্যে প্রায় ২০হাজার হেক্টর ধান জমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে কৃষিদপ্তর। কান্দি মহকুমায় ক্ষতির পরিমাণ সব থেকে বেশি। ভরতপুর-১ ও ২, কান্দি, খড়গ্রাম, বড়ঞা ব্লকে চাষের জমিতে ব্যাপক জল ঢুকে ধানগাছ ডুবিয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘদিন জলমগ্ন থাকায় ধান গাছের ক্ষতি হয়। কিছু কিছু জমিতে জল নেমে গেলেও পুনরায় বীজধান রোপণ করে ধান চাষ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এছাড়াও বহরমপুর, নবগ্রাম, সূতি-১ ও ফরাক্কা ব্লকের সিংহভাগ জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। কৃষিদপ্তর প্রতিটি ব্লক ধরে ধরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করেছে।

Advertisement

জেলা কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, পাঁচটি ব্লকের ধান চাষের জমি সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসলেন ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফের ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। 
লাগাতার বৃষ্টি ও নদনদীর জলে মুর্শিদাবাদে প্লাবিত হয় বর্ষার ধান চাষের বিস্তীর্ণ জমি। জল দ্রুত না নামলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা। কৃষিদপ্তরের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে। জল পুরোপুরি নামলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বোঝা যাবে বলে অধিকারিকরা জানিয়েছেন। তবে বহরমপুর ব্লকে বাঁধ ভেঙে নদীর নোনা জল ঢুকে অনেক জায়গা প্লাবিত হয়। সেখানে চাষের ক্ষতি বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া কান্দি মহকুমারও বিস্তীর্ণ এলাকার জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। কোথাও কোথাও সব্জির জমিও জলের তলায়। ফসল বাঁচানো যাবে না ধরে নিয়েই চাষিরা ক্ষতিপূরণের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। বাংলা শস্যবিমার জন্য আবেদন করছেন চাষিরা। অন্যান্যবারের তুলনায় এবার বিমার আবেদন বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ কৃষক বাংলা শস্য বিমার আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক লক্ষ আবেদন জমাও পড়ে গিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা কোনওভাবে নিজেদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন, সেই জন্য লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে কৃষিদপ্তর। প্রতিটি ব্লকের কৃষি আধিকারিকরা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। সেইসঙ্গে বিভিন্ন ট্যাবলোর মাধ্যমেও চাষিদের সচেতন করা হচ্ছে। সকলেই যাতে শস্যবিমার আবেদন করেন, তা জানানো হচ্ছে। 
কান্দি ব্লকের হিজলের ধান চাষিরা বলেন, ধান লাগানো পরেই বিস্তীর্ণ জমি জলের তলায় চলে যায়। চারাগাছ ডুবে যায়। ধান বাঁচানো যায়নি। এখন শস্যবিমা আমাদের ভরসা। আবেদন করে দিয়েছি।  
কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, যে সমস্ত ব্লকে অতি বৃষ্টি ও বন্যার জলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। সমস্ত চাষি যাতে বাংলা শস্য বিমায় আবেদন করেন, সেব্যাপারে অনুরোধ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের নাম বিমায় নথিভুক্ত থাকলে তাঁরা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ