নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বাংলাকে না জানিয়ে ঝাড়খণ্ডের গালুডি ড্যাম থেকে দফায় দফায় জল ছাড়া হচ্ছে। সুবর্ণরেখা নদীর জলে তলিয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা জমি। নদী তীরবর্তী গ্ৰাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার সকালে মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরদের নিয়ে গোপীবল্লপুর-১ ও ২ ব্লকের একাধিক স্থান পরিদর্শন করেন। জরুরি ভিত্তিতে সেচ দপ্তরের আধিকারিকরদের নদীর পাড় বাঁধানোর নির্দেশ দেন। রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়ায় তোপ দাগেন সেচমন্ত্রী। তিনি মালঞ্চ গ্ৰামে গিয়ে বলেন, রাজ্যকে না জানিয়ে ঝাড়খণ্ডের গালুডি থেকে বারবার জল ছাড়া হচ্ছে। এই গ্ৰামকে বাঁচতে জরুরি ভিত্তিতে সবকিছু করা হবে। জেলাশাসককে বিপর্যয় মোকাবিলা ও ত্রাণ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এবছর বর্ষার শুরুতেই ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। নদী খাল বিল উপচে জল জমিতে ঢুকে পড়ছে। সুবর্ণরেখা নদীর তীব্র জলস্রোতে নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। জনবসতি এলাকার দিকে নদী এগিয়ে আসছে। জেলার দক্ষিণ অংশে মালঞ্চ, শুকদেবপুর, নরসিংহপুর, যাদবপুরের মতো একাধিক গ্ৰামের বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে বার বার উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
সেচমন্ত্রী মানসবাবু মঙ্গলবার রাতে ঝাড়গ্রামে আসেন। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে সার্কিট হাউসে থেকে গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে কাথুয়া কজওয়ে পরিদর্শন করেন। আধিকারিকদের কাছে খালের উপর ব্রিজ তৈরির বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন। সেখান থেকে সুবর্ণরেখা তীরবর্তী কুলিয়ানা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মালঞ্চ গ্ৰামে যান। মন্ত্রীর সামনেই পাড়ের বড় অংশ নদীতে ভেঙে পড়ে। মন্ত্রী জেলা সেচ দপ্তরের আধিকারিকরদের জরুরি ভিত্তিতে পাড় বাঁধানোর কাজ শুরুর নির্দেশ দেন।
এরপর সেখান থেকে গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের আমরদা এলাকায় ধসে যাওয়া রাস্তা দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। জেলাশাসককে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। এরপর সাতমা এলাকার নদী তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেন। বিকেলে জেলাশাসকের দপ্তরে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। সেচমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনের বড় কর্তারা এদিন গ্ৰামের নদীর ভাঙন দেখতে আসায় মালঞ্চ এলাকার বাসিন্দার প্রথমে হতচকিত হয়ে যান। তাঁরা গোট গ্ৰাম নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কার কথা মন্ত্রীকে জানান।
ওই গ্ৰামের বাসিন্দা অসিত পরিহারি বলেন, খুবই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। মন্ত্রী গ্ৰামে আসায় ও আশ্বাস দেওয়ায় ভালো লাগছে। পাড় বাঁধানোর কাজ দ্রুত শুরু হোক। না হলে সব হারাব আমরা। গৃহবধূ বধু দণ্ডপাট কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমরা চাই নদীর গ্ৰাস থেকে মন্ত্রী আমাদের গ্ৰামকে রক্ষা করুন। সাতমা এলাকার বাসিন্দা বলেন, গালুডি থেকে বারবার ছাড়া জলে সুবর্ণরেখা নদীর মাঝ থেকে ছোট দ্বীপ জলের তলায় চলে যাচ্ছে। গড়গড়ি থেকে জালবেন্দি পর্যন্ত পাড় না বাঁধলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
জেলা সচ দপ্তরের আধিকারিক নমিত সরকার বলেন মালঞ্চ গ্ৰামে ১২০০ মিটার পাড় বাঁধানো হবে। এছাড়াও অন্যান্য নির্দেশ জরুরি ভিত্তিতে পালন করা হবে। বর্ষার পর পাড় বাঁধানোর কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে।-নিজস্ব চিত্র