Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেতনহীন সাফাইকর্মীরা, ঘুরপথে ভাতা তোলেন কাউন্সিলাররা! পুরুলিয়া পুরসভার ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’ অবস্থা নিয়ে চর্চা

অস্থায়ী কর্মীদের গত দু’মাসের বেতন দিতে পারেনি পুরুলিয়া পুরসভা। তার জেরে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন পুরুলিয়া শহরের সাফাইকর্মীরা।

বেতনহীন সাফাইকর্মীরা, ঘুরপথে ভাতা তোলেন কাউন্সিলাররা! পুরুলিয়া পুরসভার ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’ অবস্থা নিয়ে চর্চা
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: অস্থায়ী কর্মীদের গত দু’মাসের বেতন দিতে পারেনি পুরুলিয়া পুরসভা। তার জেরে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন পুরুলিয়া শহরের সাফাইকর্মীরা। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া সাফাই কর্মীদের কর্মবিরতি এনিয়ে চারদিনে পড়ল। অস্থায়ী কর্মীদের অভিযোগ, অধিকাংশ কাউন্সিলার প্রতি মাসে পয়লা তারিখে ঘুরপথে ভাতা নিচ্ছেন। অথচ অস্থায়ী কর্মীদের টাকা মেটানো হচ্ছে না। 

Advertisement

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া পুরসভার ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা। আয়ের থেকে ব্যয় বেশি। পুরসভার ১৫০০ জন অস্থায়ী কর্মীকে বেতন দিতে পুরসভার খরচ হয় প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। কিন্তু, নিজস্ব তহবিলে মাসে আয় তার অর্ধেকও নয়। অভিযোগ, প্রতি মাসে ‘ঘুরপথে’ ২০ হাজার টাকার বেশি ভাতা তোলেন অধিকাংশ কাউন্সিলার। 
পুরসভা সূত্রের খবর, নতুন পুরবোর্ড গঠনের পরেই বোর্ড মিটিং করেন পুরসভার জনপ্রতিনিধিরা। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, কাউন্সিলাররা মাসিক ২০হাজার, সিআইসিরা ২৪হাজার,  ভাইস চেয়ারম্যান ৩০হাজার ও চেয়ারম্যান ৩৬হাজার টাকা ‘ভাতা’ তুলবেন। তারপর থেকে এভাবেই চলে আসছিল। তবে, ঘুরপথে ভাতা নেওয়ার ব্যাপারটা জানতে পারে রাজ্য। গত বছর চেয়ারম্যানের কাছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের একটি চিঠি এসে পৌঁছয়। সরকারি নির্দেশিকার তুলনায় অতিরিক্ত ভাতা নেওয়া হয়ে থাকলে তা দ্রুত পুরসভার ফান্ডে ফেরত দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপরই তড়িঘড়ি বৈঠকে বসে অতিরিক্ত ‘ভাতা’ ছেঁটে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যা প্রাপ্য, তাই দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিলাররা মাসিক দেড় হাজার টাকা, চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলরা দু’হাজার টাকা, ভাইস চেয়ারম্যান সাড়ে তিন হাজার টাকা ও চেয়ারম্যান পাঁচ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। যদিও বিষয়টি ধামাচাপা পড়তেই ফের ঘুরপথে ভাতা নেওয়ার শুরু করে দেন কাউন্সিলাররা। এই তালিকায় শাসক দলের পাশাপাশি বিজেপি কাউন্সিলাররাও রয়েছেন। 
চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি বলেন, রাজ্য থেকে ওই চিঠি আসার পর আমি বিষয়টি কাউন্সিলারদের জানাই। তারপরেও তাঁরা ওয়ার্ডে বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে ভাউচার জমা দিচ্ছেন। আমি তাতে সই করে নিজস্ব তহবিল থেকে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছি। 
কাউন্সিলার তথা তৃণমূলের শহর সভাপতি প্রদীপ ডাগা বলেন, ওই নির্দেশিকার পর থেকে আমি অতিরিক্ত ভাতার টাকা নিচ্ছি না। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী যে যৎসামান্য ভাতা প্রাপ্য, তাই নিই। বাদবাকি কে কী করছে বলতে পারব না। 
পুরসভার অচলাবস্থা কাটাতে বৃহস্পতিবার পুরপ্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অস্থায়ী কর্মীদের জুলাই মাসের বকেয়া বেতন আগামী সপ্তাহের শুরুতেই মিটিয়ে দেওয়া হবে। তার কিছুদিন পর আগস্ট মাসের বেতনও মিটিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পুজোর বোনাস ১৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০০ টাকা দেওয়া হবে। চেয়ারম্যান বলেন, এই মুহূর্তে বেতন বৃদ্ধির সুযোগ নেই। কারণ সেই আয় পুরসভার নেই। তবে, লোন নিয়ে হলেও আমরা দু’মাসের বেতন মিটিয়ে দেব।
তবে কর্মবিরতি তোলার ব্যাপারে অস্থায়ী কর্মীরা চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত জানাননি। পুরসভার অচলাবস্থা নিয়ে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, দৈনিক ১২০টাকা হারে সাফাইকর্মীরা মাসে মাত্র ৩৬০০টাকা বেতন পান। সেই টাকাও দিতে পারছে না পুরসভা। কিন্তু, কিছু কাউন্সিলার অফিস খরচ দেখিয়ে প্রতিমাসে ঘুরপথে ২০ হাজার টাকা করে পুরসভা থেকে তুলছেন। সাধারণ মানুষের করের টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে পুরসভার কিছু কাউন্সিলর। অথচ পুর পরিষেবা দেওয়ার বেলা অষ্টরম্ভা। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে চেয়ারম্যান সহ সমগ্র পুরোবোর্ডের পদত্যাগ করা উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ