Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাত্রী দেখানোর নাম করে ব্যবসায়ীকে আটকে মুক্তিপণ চাইল দুষ্কৃতী, ধৃত

পাত্রী দেখানোর নাম করে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পাত্রী দেখানোর নাম করে ব্যবসায়ীকে আটকে মুক্তিপণ চাইল দুষ্কৃতী, ধৃত
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: পাত্রী দেখানোর নাম করে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম শেখ জিয়ারুল ওরফে টুকাই। তার বাড়ি ভাতার থানার বামশোর গ্রামে। সোমবার রাতে আলিনগর মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ঘটনায় জড়িত বলে ধৃত পুলিশকে জানিয়েছে। মঙ্গলবার ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক টিআই প্যারেডের নির্দেশ দিয়ে জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। 

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলকোট থানার বামুনগ্রামের বাসিন্দা প্রাণগোপাল মণ্ডলের রাইস মিল রয়েছে। তিনি তাঁর ছোট ছেলের বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্রীর খোঁজ করছিলেন। গত আগস্ট মাসে বর্ধমান শহরের চিকিৎসকের চেম্বারে এক মহিলার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কথাবার্তা চলাকালীন ছেলের জন্য পাত্রী খোঁজার বিষয়টি তিনি সেই মহিলাকে জানান। তাঁর সন্ধানে ভাতার থানার কামারপাড়ায় পাত্রী রয়েছে বলে মহিলা জানায়। এরপর দু’জনের মধ্যে ফোন নম্বর আদানপ্রদান হয়। কয়েকদিন পর প্রাণগোপালের কাছে পাত্রীকে দেখতে যাওয়ার জন্য ফোন আসে। গত ২৭সেপ্টেম্বর তিনি গাড়ির চালককে নিয়ে পাত্রী দেখতে যাওয়ার জন্য রওনা দেন। তাঁকে ধাঁদলসা গ্রামের কাছে যেতে বলা হয়। সেখানে যাওয়ার পর তিনি মহিলাকে ফোন করেন। মহিলা জানায়, তাঁকে পাত্রীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এক যুবককে পাঠানো হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে দু’টি বাইকে ছয় যুবক তাঁর গাড়ির কাছে আসে। যুবকরা তাদের বাইক অনুসরণ করে আসার জন্য বলে। এরপর একটি নির্জন জায়গায় যুবকরা বাইক দু’টি দাঁড় করায়। বাইক থেকে নেমে এক যুবক গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে। চালককে প্রাণগোপালের পাশে বসিয়ে দেয়। যুবকদের মধ্যে আরও একজন এসে পিছনের সিটে বসে। বেশকিছু দূর যাওয়ার পর প্রাণগোপাল পাত্রীর বাড়ি যেতে কতক্ষণ লাগবে, তা জানতে চান। তখন পাশে বসে থাকা যুবক আগ্নেয়াস্ত্র বের করে চুপ করে বসে থাকার কথা জানায়। কথা না শুনলে গুলি করে মেরে দেওয়ার হুমকি দেয়। এদিক-ওদিক ঘুরে এড়ুয়ার ক্যানেল পুলের কাছে একটি জায়গায় গাড়িটিকে দাঁড় করায়। জোর করে প্রাণগোপাল ও তাঁর গাড়ির চালককে মারধর করে চার ভরি ওজনের সোনার চেন, ব্রেসলেট, আংটি কেড়ে নেয়। এরপর তাঁদের একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। প্রাণগোপালের বাড়িতে ফোন করে পাঁচ লক্ষ আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। বাড়ির লোকজন রাজি না হওয়ায় সারারাত তাঁকে মারধর করা হয়।
এরপর ভোরের দিকে এক মহিলাকে নিয়ে আসা হয়। এরপর প্রাণগোপালকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে মহিলার সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়। তারপর স্ট্যাম্প পেপারে জোর করে সই করিয়ে নেওয়া হয়। সকাল হলে তাঁকে ও চালককে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার আগে দু’দিনের মধ্যে পাঁচ লক্ষ টাকা না দিলে আপত্তিকর ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়ানোর ও মহিলাকে দিয়ে অভিযোগ করিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তারপর থেকে তাঁকে ও তাঁর  ছেলেকে ফোন করে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত ১৮অক্টোবর প্রাণগোপাল ভাতার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ আশপাশ এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। তার ভিত্তিতে ঘটনায় জিয়ারুলের জড়িত থাকার কথা জানতে পারে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ