নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিহার, উত্তরপ্রদেশের দুষ্কৃতীরা পরিকল্পনা করে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ঢোকাচ্ছে রাজ্যে। নাইন এমএম, সেভেন এমএম এবং উন্নতমানের ওয়ান শটারও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তারা সরবরাহ করছে। আশরাফুল আনসারি ওরফে চানা নামে এক অস্ত্র কারখানার মালিককে গ্রেপ্তার করার পর এমনই তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। উৎসবের মরশুমে রাজ্যে অশান্তি পাকানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে কি না, তা গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। তাঁদের দাবি, দুষ্কৃতীরা বিভিন্ন সময় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসে। ধরাও পড়ে। কিন্তু এখন যে কায়দায় আগ্নেয়াস্ত্র ঢোকানো হচ্ছে, তাতে অনেকেই সিদুঁরে মেঘ দেখছেন। বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডের অস্ত্র কারবারিরা নিজেরা এরাজ্যে এসে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করছে। কয়েকদিন আগে বিহারের বাঁকা জেলার চানাকে অণ্ডাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরায় চানা এ রাজ্যে অস্ত্র সরবরাহের কথা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে বীরভূমের দুবরাজপুর এবং কলকাতার কয়েকজন রিসিভারের নাম তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। অণ্ডালে দুবরাজপুরের এক রিসিভারের আগ্নেয়াস্ত্র নিতে আসার কথা ছিল। কিন্তু সে আসার আগেই গোয়েন্দারা মূল অস্ত্র কারবারিকে পাকড়াও করে। এ রাজ্যে ব্যাপক হারে অস্ত্র পাচারের ইনপুট পেয়ে গোয়েন্দারা বিহারে গিয়ে ওত পেতেছিলেন। সেখানকার এসটিএফের সহযোগিতা নিয়েই অপারেশন চালান তাঁরা। এক আধিকারিক বলেন, শুধু আগ্নেয়াস্ত্র নয়, বিহার থেকে রাজ্যে বারুদও পাঠানো হচ্ছে। চায়না বারুদ মুঙ্গের, ভাগলপুর এবং মুজফ্ফরপুরের দুষ্কৃতীরা সরবরাহ করছে। এই বারুদ দিয়ে তৈরি বোমায় আওয়াজ বেশি হয়। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও বেশি থাকে। বারুদ বা আগ্নেয়াস্ত্র মুর্শিদাবাদ বা মালদহ হয়ে এতদিন বাংলাদেশে যেত। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে পাচারকারীদের পুলিস গ্রেপ্তারও করেছে। কিন্তু অণ্ডাল বা পানাগড় ‘রিসিভ’ পয়েন্ট তৈরি হওয়ায় গোয়েন্দাদের ঘুম ছুটেছে। সড়কপথে আগ্নেয়াস্ত্র আনা ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন জায়গায় পুলিস চেকিং করে। তাই দুষ্কৃতীরা এখন রেলপথ ব্যবহার করছে। লোকাল ট্রেনে তুলে তারা বেশিরভাগ সময় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসছে রাজ্যে। রেল অবশ্য জানিয়েছে, ট্রেনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দিনকয়েক আগে ট্রেনে নিষিদ্ধ সিরাপ পাচারের চেষ্টা হয়েছিল। বর্ধমান জেলায় সেগুলি পাকড়াও করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্র কারবারিদের উপরও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এক গোয়েন্দা অফিসার বলেন, সামনেই উৎসবের মরশুম রয়েছে। এই সময় অশান্তি পাকিয়ে কেউ ফায়দা তুলতে পারে। তাই বাড়তি সতকর্তা নেওয়া হয়েছে। অস্ত্র বা বারুদ কারবারিরা এখন বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছে। অনেক সময় তারা বিহার থেকে আসা ট্রাক বা লরিকে ব্যবহার করছে। অন্য কোনও পণ্যের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা চলছে। চানাকে গ্রেপ্তার করে বড়সড় সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। তার মাধ্যমে এরাজ্যে অনেকেই আগ্নেয়াস্ত্র এনেছে। তাদের উপরও নজরদারি চালানো হচ্ছে।



