Bartaman Logo
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন! বরখাস্ত খাদ্যদপ্তরের তিন কর্মচারী

পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার বিষয়টি গোপন করার জন্য চাকরি হারালেন খাদ্যদপ্তরের তিন সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই)।

ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন! বরখাস্ত খাদ্যদপ্তরের তিন কর্মচারী
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার বিষয়টি গোপন করার জন্য চাকরি হারালেন খাদ্যদপ্তরের তিন সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই)। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষার মাধ্যমে তিন থেকে পাঁচ বছর আগে তাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে সমীর মণ্ডল নামে একজনের চাকরি গত জানুয়ারি মাসে চলে গিয়েছিল। কিন্তু মালদহের কালিয়াচক থানার যে কেসটিতে তিনি অভিযুক্ত ছিলেন আদালতের রায়ে তার থেকে ছাড়া পেয়ে যাওয়ায় চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন খাদ্যদপ্তর গ্রহণ করেনি। বিভাগীয় নির্দেশে বলা হয়েছে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের ফর্ম ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি যখন জমা দেন সেইসময় কালিয়াচক থানার কেসটিতে চার্জশিটে অভিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু তিনি এই বিষয়টি ভেরিফিকেশন ফর্মে উল্লেখ করেননি। তাই ফৌজদারি কেস থেকে মুক্ত হলেও ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য তাঁকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না।

Advertisement

গৌরাঙ্গ পোদ্দার ২০২১ সালে খাদ্যদপ্তরের এসআই পদে চাকরি পান। চাকরি পাওয়ার সময় অন্যতম শর্ত ছিল পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট ঠিক হলে তবেই প্রোবেশনের পর চাকরি পাকা হবে। তিনি পুলিশ ভেরিফিকেশন ফর্মে উল্লেখ করেছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি কেস নেয়। কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে জানানো হয়, দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন থানার একটি কেসে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে। এরপর খাদ্যদপ্তর  তথ্য গোপন করার জন্য তাঁকে শোকজ করে। জবাব সন্তোষজন না-হওয়ায় তাঁকে এমাসে বরখাস্ত করার নির্দেশ জারি হয়েছে। আসলাম মণ্ডলকে পুলিশ ভেরিফিকেশন ফর্মে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার বিষয়টি গোপন করার জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ রিপোর্টে জানানো হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে নদীয়ার ধানতলা থানার একটি কেসে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। সেই মামলাটি রানাঘাট আদালতে বিচারাধীন আছে।
সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট সন্তেষজনক হলে তবেই সরকারি কর্মী-আধিকারিকরা কাজে যোগ দিতে পারেন। এখানে কেন তা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। খাদ্যদপ্তর সূত্রে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে যোগদান করার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশ ছিল। তাই ভেরিফিকেশন রিপোর্ট আসার আগে প্রোবেশনে যোগ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ