নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের টাকাও লেনদেন হয়েছে মহম্মদ সইদুলের খোলা সারোগেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সোমবার কলকাতার এক মহিলা সফ্টওয়ার ইঞ্জিনিয়ার এ ব্যাপারে ফাঁসিদেওয়া থানায় অভিযোগ করেন। ওই মহিলা খুঁইয়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা। এদিকে, সইদুলের কায়দায় আরও ১০টি গ্যাং তৈরি হয়েছে ফাঁসিদেওয়ায়। অনলাইনে কাস্টমার সার্ভিস প্রদানের নাম করে সেগুলি চলছে বলে অভিযোগ। মানি লন্ডারিং কাণ্ডের তদন্তে নেমে এমন তথ্য পেয়েছে পুলিস। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে।
সারোগেটেড বা মিউল অ্যাকাউন্ট খুলে তা বিদেশের বিভিন্নপ্রান্তে ঘাঁটি গেড়ে থাকা মানি লন্ডারিং সিন্ডিকেটের কাছে ভাড়া দিত সইদুল। ধৃতের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে পুলিস চাঞ্চল্যকর আরও কিছু তথ্য পেয়েছে। এদিন সংশ্লিষ্ট গ্যাংয়ের বিষয়ে কলকাতার এক মহিলা অভিযোগ তুলেছেন। এদিন শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে বিচারকের কাছে ওই মহিলার বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয় বলে খবর।
দার্জিলিংয়ের পুলিস সুপার প্রবীণ প্রকাশ বলেন, ওই মহিলা লোন অ্যাপ ডাউনলোড করেছিলেন। সেখান থেকেই তাঁর সমস্ত তথ্য ও ছবি জালিয়াত চক্রের হাতে যায়। তাঁর ছবি দিয়ে তৈরি করা হয় অশ্লীল ছবি। তা ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে চক্র। ভয় পেয়ে ওই মহিলা প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা চক্রের কাছে দেয়। সেই টাকা ধৃত সইদুলের খোলা সারোগেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। এনিয়ে ধৃতের বিরুদ্ধে সাতজনের কাছ থেকে অভিযোগ মিলল।
শুধু কলকাতা নয়, ধৃতের খোলা অ্যাকাউন্টে তামিলনাড়ু, কেরল, কর্ণাটক, রাজস্থান প্রভৃতির রাজ্যের বাসিন্দাদের টাকাও খেটেছে। পুলিস সূত্রে খবর, কেরলের এক বাসিন্দার ৪২ লক্ষ টাকা ধৃতের খোলা অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিস তথ্য পাঠিয়েছে। এরবাইরে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য ঘেটে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে ৩১৪টি সাইবার প্রতারণার ঘটনায় ধৃতের খোলা সারোগেটেড অ্যাকাউন্টে টাকা খেটেছে বলে অভিযোগ। এজন্য অনলাইনে রাজস্থান, তামিলনাডু ও কেরলের চার ব্যক্তির বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, ধৃত সইদুলের আদলে আরও কিছু চক্র গজিয়েছে ফাঁসিদেওয়ায়। পুলিস সূত্রের খবর, ধৃত মোবাইল ফোনের মেকার সইদুল একটি মহিলার নামে অনলাইন কমিউনিকেশন কোম্পানি চালু করেছিল। সেই কায়দায় অনলাইনে সার্ভিস প্রদানের নাম করে আরও ১০টি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা ভুল বুঝিয়ে গ্রামবাসীদের নামে অ্যাকাউন্ট খুলছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের সঙ্গেও ধৃত মোবাইল মেকারের যোগাযোগ ছিল বলেই সন্দেহ। এসপি বলেন, ওই গ্যাংগুলির বিষয়ে কিছু তথ্য মিলেছে। অভিযানও শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন অভিযুক্ত গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। পাশাপাশি পুলিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার সারোগেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খোঁজ মিলেছে। সেগুলি ব্যবহার করে ২০০ কোটি টাকার বেশি জালিয়াতি হয়েছে বলে সন্দেহ।