সংবাদদাতা, মালদহ: ছোটখাটো বচসাই হোক কিংবা পুরানো শত্রুতা- প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কথায় কথায় ব্যবহার করা হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র। গত এক বছরে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বাবলা সরকারের খুন থেকে অন্যান্য একাধিক হিংসা ও হামলার ঘটনায় এমনই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার দেখা গিয়েছে বারবার। মূলত প্রতিবেশী বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে এই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র আনার প্রবণতাও সামনে এসেছে বিভিন্ন সময়ে। পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার রুখতে পুলিশ অলআউট পদক্ষেপ করবে। কাউকেই রেয়াত করা হবে না। শিকড় থেকে নির্মূল করা হবে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ইংলিশবাজার, কালিয়াচক এবং মানিকচক মিলিয়ে চারটি গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। তৃণমূল নেতা বাবলা সহ খুন হয়ে যান চারজন। তুঙ্গে ওঠে পুলিশের তৎপরতা। মালদহে এসে ঘুরে যান রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও।
এরপরই জেলাজুড়ে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে লাগাতার অভিযান শুরু করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছিল, অধিকাংশ আগ্নেয়াস্ত্রই চোরাপথে মালদহে ঢুকেছে বিহার এবং ঝাড়খণ্ড থেকে। চোরাপথে সেই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে গিয়েছে স্থানীয় ছোটখাটো দুষ্কৃতীদের কাছেও। ফলে এলাকা দখল তো বটেই, এমনকি ছোটখাটো বচসা কিংবা শত্রুতার কারণেও যখন তখন দুষ্কৃতীরা ব্যবহার করেছে আগ্নেয়াস্ত্র। এই অস্ত্র কারবার নির্মূল করতে শিকড়ের খোঁজ করছে পুলিশ।
জেলা পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, অতীতেও দুষ্কৃতীরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করত। কিন্তু সেই সংখ্যাটা ছিল অনেক কম। অধিকাংশ হামলা বা আক্রমণে মূলত ধারালো অস্ত্রই বেশি ব্যবহারের প্রবণতা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে চোরাপথে হাতে চলে আসায় দুষ্কৃতীরাও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের পথই বেছে নেয়।
বছর দশেক আগে কালিয়াচকে জেলা পুলিশের এক অভিযানে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি সামনে এসেছিল কালিয়াচকেই গোপনে তৈরি করা হচ্ছিল দেশি আগ্নেয়াস্ত্র। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছিল বিহারের মুঙ্গেরের দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি চলছিল মালদহে। পরবর্তীতে পুলিশ লাগাতার অভিযান চালাতে থাকায় কালিয়াচকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তার বদলে বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে রেডিমেড বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র চোরাপথে ঢোকা শুরু হয়।
গত এক বছরে দেখা গিয়েছে, পেশাদার দুষ্কৃতীরা তো বটেই, কালিয়াচক, মোথাবাড়ি, ইংলিশবাজারের ছিঁচকে মাস্তানরাও চোরাপথে আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করার ব্যবস্থা করেছে বেশকিছু ক্ষেত্রে।
পুলিশ সুপার বলেন, যারাই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ বা ব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ করতে দু’বার ভাববে না পুলিশ। জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও আপোষ করা হবে না।