Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামের বামুনাবাঁধের ঝাড়ুর কদর হাওড়া, কলকাতায়, সরকারি সাহায্যপ্রার্থী কারিগররা

খড়্গপুর, কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের চাহিদা পূরণ করছে ঝাড়গ্রামের বামুনাবাঁধ গ্রামের তৈরি খেজুর পাতার ঝাড়ু

ঝাড়গ্রামের বামুনাবাঁধের ঝাড়ুর কদর হাওড়া, কলকাতায়, সরকারি সাহায্যপ্রার্থী কারিগররা
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: খড়্গপুর, কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরের বাসিন্দাদের চাহিদা পূরণ করছে ঝাড়গ্রামের বামুনাবাঁধ গ্রামের তৈরি খেজুর পাতার ঝাড়ু। ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া পঞ্চায়েতের এই গ্রামের ৪২টি এসসি সম্প্রদায় ভুক্ত পরিবারের পেশা ঝাড়ু তৈরি করা। জঙ্গল থেকে খেজুর পাতা সংগ্রহ করে তা থেকেই তৈরি হয় ঝাড়ু। মহাজনরা গ্রামে এসে পাইকারি দরে সেই ঝাড়ু কিনে নিয়ে যায়। বামুনাবাঁধ গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, ঝাড়ু তৈরি এই গ্রামের কুটিরশিল্প। এর জন্য সরকারি সাহায্য পাওয়া গেলে তাঁরা আরও বড় আকারে এই শিল্প গড়ে তুলতে পারতেন। 

Advertisement

ঝাড়গ্রাম ব্লকের মানিকপাড়া পঞ্চায়েতের কংসাবতী নদীর পাড় ছুঁয়ে রয়েছে বামুনাবাঁধ গ্রাম। ঢাকিপাড়া বললেই এই পরিবারগুলিকে সবাই চিনতে পারে। কারণ, পুজোর সময় ঢাক বাজানোই এঁদের পেশা। বছরের বাকি সময়ে পাশের রামরামা, বাঁশতলা, ভাওদা, নলবনা জঙ্গল থেকে তাঁরা খেজুর পাতা সংগ্রহ করেন। পরিবারের পুরুষেরা একদিন জঙ্গলে বেরিয়ে বেশি পরিমাণে খেজুর পাতা নিয়ে আসেন। যা দিয়ে পরিবারের সবাই মিলে এক সপ্তাহ ধরে ঝাড়ু তৈরি করেন। প্রতিটি পরিবার প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি ঝাড়ু তৈরি করে। আগে ঝাড়ু পিছু পাইকারি দাম ছিল ৭ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা।  এই গ্রামে তৈরি খেজুর পাতার ঝাড়ু খড়্গপুর, কোলাঘাট, হাওড়া, কলকাতায় পর্যন্ত যায়। । 
জঙ্গল রাস্তায় দেখা গেল গ্রামের বাসিন্দারা সাইকেল বোঝাই করে খেজুর পাতা ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা বলেন, হাতির আগাম খবর জেনে আমরা জঙ্গলে খেজুর পাতা সংগ্রহে যাই। এই কাজের জন্য সরকারি সাহায্য মেলে না। পরিবারগুলির জমি জায়গা নেই বললেই চলে। 
সারা বছর ঝাড়ু বিক্রি করেই সংসার চলে। চাষের সময় অনেকেই দিনমজুরের কাজ পান। বাকি সময়ে চলে ঝাড়ু তৈরি। ঝাড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দেবব্রত সাহা বলেন,  আমরা সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত প্রধান ও স্বসহায়ক দলগুলিকে নিয়ে বামুনাবাঁধ গ্রামে একটি কর্মসূচি করব। ঝাড়ু তৈরি শিল্পকে প্রসারিত করার জন্য কীভাবে সরকারি সহায়তা প্রদান করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। আমাদের সরকার সব সময় মানুষের পাশে আছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সব সময়ে চাইছেন, মানুষ স্বনির্ভর হোক। অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটুক। তাঁরা যাতে এই কুটির শিল্পকে চালিয়ে নিয়ে যেতে পারেন তার ব্যবস্থা করা হবে।  খেজুর পাতা সংগ্রহ করছেন কারিগররা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ