নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: তিলপাড়া ব্যারাজের ডিভাইড ওয়ালের ফাটল ক্রমেই বাড়ছে। শনিবারের পর রবিবার সেই ফাটল আরও অনেকটাই চওড়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ডিভাইড ওয়ালের কিছুটা অংশ নীচের দিকে বসতে শুরু করেছে। তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সেচদপ্তর সহ বীরভূম জেলা প্রশাসনের কর্তারা। এই পরিস্থিতিতে এবার সেচদপ্তর সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে চলেছে। ইতিমধ্যে সিউড়িতে এসে পৌঁছেছেন ড্যাম বিশেষজ্ঞ জুলফিকার আহমেদ। এদিন তাঁর উপস্থিতিতে রাজ্য সেচদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব মনীশ জৈন জরুরিকালীন বৈঠক সারেন। ব্যারাজ সংলগ্ন সেচদপ্তরের অফিসে চলা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সেচদপ্তরের একাধিক ইঞ্জিনিয়ার, জেলাশাসক বিধান রায় সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারাজ সংস্কার কোন পথে? বর্তমান সময়ে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। রাজ্য সেচদপ্তরের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা সেখানে রয়েছেন। রুরকি আইআইটি থেকে এক্সপার্ট ইঞ্জিনিয়ার আনা হয়েছে। এছাড়াও সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের বিশেষজ্ঞ আনা হচ্ছে। আমরা যতটা সম্ভব বুক আগলে কাজ করছি। তাঁর আরও সংযোজন, দীর্ঘদিন এই ব্যারাজ সংস্কারে হাত দেয়নি কেউ। আমরাই প্রথম সংস্কারের কাজ শুরু করেছিলাম। আমরা আশাবাদী বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। যেখানে ফাটল ধরেছে, সেখানে নজর রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে যান নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
তিলপাড়া ব্যারাজের সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অতিবর্ষণের জেরে বিপত্তি ঘটে। ময়ূরাক্ষীর জলস্তর স্বাভাবিক রাখতে ২৫ জুন থেকে একাধিক লকগেট খুলে অবিরাম জল ছাড়া হচ্ছে। তবে ২৮ জুন ভারী মাত্রায় জল ছাড়ার ফলে ব্যারাজ যথেষ্টই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৪ ও ৫ নম্বর লক গেটের মাঝে থাকা ডিভাইড ওয়ালে ফাটল ধরে। এমনকী, ডিভাইড ওয়ালের নীচ থেকে বালি-মাটি সরে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়। সম্প্রতি বিষয়টি নজরে আসে। এরপরই তড়িঘড়ি জেলা প্রশাসন ও পুলিসের তরফে ব্যারাজের উপর থাকা সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বাস সহ ডাম্পার ও লরি ঘুরপথে চালানো হয়। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়। মূলত ব্যারাজের উপর চাপ কমাতেই এই পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। কিন্তু, ডিভাইড ওয়ালের ফাটল আরও চওড়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে কিছুটা অংশ নদী গর্ভে বসতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা স্থির করতেই এদিন ড্যামের নকশা নিয়ে বৈঠক চলে। ম্যারাথন বৈঠকে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলে। যদিও এখনই সমাধান সূত্র অবশ্য সামনে আসেনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ড্যাম বিশেষজ্ঞ জুলফিকার আহমেদ সহ রাজ্য সেচদপ্তরের অতিরিক্ত সচিবের পথ নির্দেশনাতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বর্তমান সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইড ওয়ালের উপর নজর রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্য সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার সহ বিশেষজ্ঞরা ব্যারাজ পরিদর্শন করেছেন। অপেক্ষা চলছে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার। সেচদপ্তর সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের কথায়, বৃষ্টিতে বিরাম পড়লেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নতুন করে সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। শুরুতেই ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইড ওয়ালের সংস্কারের কাজে জোর দেওয়া হবে।