সংবাদদাতা, মালদহ: জেলায় নির্বাচনী রাজনীতিতে কার্যত শূন্য দশা কাটাতে এবার ‘বাংলা বাঁচাও’ যাত্রাকে হাতিয়ার করতে চাইছে সিপিএম। তবে সিপিএমের এই যাত্রা মালদহের সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে যাবে না। সেসব ক্ষেত্রে ‘উপ প্রচার’ যাত্রা করে মুখ রক্ষা করতে চাইছে তারা। মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমের সামনে এই কর্মসূচি ব্যাখ্যা করে মালদহ জেলা সিপিএম নেতৃত্ব।
দলের জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র, রাজ্য কমিটির দুই সদস্য অম্বর মিত্র এবং জামিল ফিরদৌস জানান, মঙ্গলবার রাতে হরিশ্চন্দ্রপুর হয়ে মালদহে প্রবেশ করবে এই যাত্রা। হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল, মালতিপুর, রতুয়া, গাজোল, মালদহ, ইংলিশবাজার ও মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে যাবে এই যাত্রা। হবিবপুর এবং রতুয়া থেকে উপ প্রচার যাত্রা করবে সিপিএম। অন্যদিকে মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং বৈষ্ণবনগর বিধানসভার মিলিত জমায়েত হবে কালিয়াচকের চৌরঙ্গিতে।
সিপিএমের জেলা সম্পাদক বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা, ১০০ দিনের কাজ চালু করা, আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের অতি সক্রিয়তা, বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, মালদহের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সহ একাধিক দাবিতে এই কর্মসূচি হবে জেলায়।
সিপিএমের এই যাত্রাকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল এবং বিজেপি। জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি শুভময় বসু বলেন, সারা রাজ্যের মতো মালদহেও সিপিএম রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। এইসব কর্মসূচির মাধ্যমে সিপিএম রাজনীতিতে ভেসে থাকার ব্যর্থ প্রয়াস করছে। যেসব দাবিতে তারা এই যাত্রা করছে তার বেশিরভাগই অপ্রাসঙ্গিক। বাকি বিষয়গুলি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলই জাতীয় স্তরে লড়াই করছে।
মালদহ দক্ষিণ জেলা বিজেপি সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, যাত্রা, নাটক আগেও অনেক করেছে সিপিএম। এখন মানুষ তাদের রাজনৈতিক নির্বাসনে পাঠিয়েছে।
তাই আবার নতুন ‘যাত্রাপালা’ করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব দেখে মানুষ তাদের উপহাস করছে।
এদিন জেলা সিপিএম সম্পাদক বলেন, মালদহের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা নতুন পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলব।