নিজস্ব প্রতিনিধি, চণ্ডীপুর: চণ্ডীপুর ব্লকের নরঘাট সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি করে লড়াই করছে সিপিএম ও বিজেপি। আজ, রবিবার চণ্ডীপুরের চাকনান হাইস্কুলে ওই সমবায়ের নির্বাচন হবে। ওই সমিতির মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে বামেরা ৩৫টি ও বিজেপি ১০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সিপিএম ও বিজেপি একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। তৃণমূলকে পরাস্ত করতে সমবায়ে নন্দকুমার মডেল অনুসরণ করে রাম-বামের এই জোট নিয়ে চণ্ডীপুরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। নীতি-আদর্শ ভুলে জোটকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।
বৃন্দাবনপুর-২ পঞ্চায়েতের চাকনান গ্রামে নরঘাট সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির অফিস। এখানে ২২০০-এর বেশি সদস্য। এই সমিতির বোর্ড এখন সিপিএমের দখলে রয়েছে। সেই বোর্ড যাতে হাতছাড়া না হয়, সেই জন্য বিজেপির সঙ্গে জোট করে লড়াইয়ে নেমেছে সিপিএম। ভগবানপুর-২ নির্বাচনী কেন্দ্রে মোট সাতটি আসন। এখানে সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্য গৌরহরি সামন্ত প্রার্থী হয়েছেন। বাকি ছ’টি আসনেও সিপিএম প্রার্থী দিয়েছে। বিজেপি ওই কেন্দ্রে কোনও আসনে প্রার্থী দাঁড় করায়নি। একইভাবে বিশালচক নির্বাচনী কেন্দ্রে মোট আটটি আসনের মধ্যে সবকটিতে সিপিএম প্রার্থী দিয়েছে। ওই কেন্দ্রে সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্য তপন সামন্তও প্রার্থী হয়েছেন। এখানে বিজেপি প্রার্থী দেয়নি। ওসমানপুর-মগরাজপুর, চকবাসুদেবপুর কেন্দ্রে মোট আসন পাঁচটি। বিজেপি, সিপিএম ও সোশ্যালিস্ট পার্টি একটি করে আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ফরওয়ার্ড ব্লক দু’টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী উজ্জ্বল সিং প্রার্থী হয়েছেন।
ওই সমবায় সমিতির অন্তর্গত নর ও শ্রীপতিগঞ্জ কেন্দ্রে সাতটি আসন। এখানে বিজেপি চারটি ও সিপিএম তিনটি আসনে জোট করেছে। বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য দীপক পাল সমবায় ভোটে প্রার্থী হয়েছেন। চাকনান নির্বাচনী কেন্দ্রে মোট ১২টি আসন। তারমধ্যে সিপিএম ন’টি এবং বিজেপি তিনটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বিজেপির বুথ কমিটির নেতা জিতেন্দ্রনাথ বেরা, কানাইলাল পণ্ডিত প্রমুখ প্রার্থী হয়েছেন। আবার বিশালচক গ্রামে মোট চারটি আসনের মধ্যে সবকটিতে সিপিএম প্রার্থী দিয়েছে। বিজেপি এখানে কোনও প্রার্থী দেয়নি। ২০২৩সালে পঞ্চায়েত সমিতির ভোটে লড়াই করা সিপিএম নেতা উত্তম মাইতি, দলের এরিয়া কমিটির নেতা সুবীর সামন্ত প্রমুখ প্রার্থী হয়েছেন।
প্রতিটি জায়গায় সিপিএম এবং বিজেপি আসন সমঝোতা করে প্রার্থী দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাস্ত করতে নিজেদের মতাদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে রাম-বাম কাছাকাছি এসেছে। এনিয়ে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য তথা সমবায়ের প্রার্থী দীপকবাবু বলেন, একটা অলিখিত জোট হয়েছে। এখানে প্রতীকে লড়াই হয় না। দু’পক্ষের মধ্যে আসন সমঝোতা হয়েছে।
সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্য তথা সমবায় ভোটের প্রার্থী গৌরহরিবাবু বলেন, আসন ভাগাভাগির বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। ওই সমবায় ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা জেলা পরিষদ সদস্য স্বপনকুমার প্রধান বলেন, সিপিএম ও বিজেপি নেতারা নীতি ও আদর্শ ভুলে এখানে অবৈধ জোট করেছে। তা সত্ত্বেও ওরা কোনও ফায়দা তুলতে পারবে না। নরঘাট সমবায় সমিতির জয় নিয়ে আমরা ১০০ শতাংশ আশাবাদী।