নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্যর স্বামীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার সকালে চাপড়া থানার বৃত্তিহুদা পঞ্চায়েতের গোখুরাপোতায় এঘটনা ঘটে। মৃতের নাম মকবুল হোসেন(৪৯)। তাঁর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। তাতে লেখা ছিল, কয়েকলক্ষ টাকা দেনা হয়ে গিয়েছিল। টাকা ফেরত না দিলে জমি লিখিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল দুই সুদখোর মহাজন। সোমবার সকালে মকবুল হোসেনের আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার বাসিন্দারা দুই মহাজনকে বেধড়ক মারধর করে। গ্রামের আরও অনেক বাসিন্দা তাদের থেকে চড়া সুদে ধার নিয়েছে। অভিযোগ, সেই টাকা আদায় করতে তারা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেয়। এদিন গ্রামবাসীরা ওই মহাজনদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। মৃতদেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে চাপড়া থানার পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিস দেহ ময়নাতদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। সেইসঙ্গে তারা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, মৃতের ঘর থেকে সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। তিনি দেনা-সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েছিলেন। আমরা তদন্ত শুরু করেছি।
মকবুল হোসেনের সার ও কীটনাশকের দোকান রয়েছে। সেইসঙ্গে চাষের কাজ করতেন। গতবছর মে মাস মহাজনদের থেকে কয়েক দফায় তিন লক্ষ টাকা ধার নেন তিনি। প্রতি মাসে সুদও দিতেন। কিন্তু অভিযোগ, হঠাৎ সুদের পরিমাণ বাড়াতে থাকে মহাজনরা। আর তা আদায় করতে মকবুল সাহেবকে হুমকি দিতে থাকে। সুইসাইড নোটে তিনি এমনটাই দাবি করেছেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে তাঁর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে জোর করে কাগজে লিখিয়ে নেওয়া হয়, টাকা শোধ করতে না পারলে জমি দিতে হবে। টাকা আদায় করতে শনিবার বাড়ির সামনে বোমাবাজি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
পঞ্চায়েত সদস্যা নুসরাত জাহান বলেন, দু’বছর আগে টাকা ধার নিয়েছিল আমার স্বামী। সুদের টাকা যাতে না বাড়ে, সেজন্য প্রতিমাসে টাকা দিত। কিন্তু ওরা আমাদের জমি হাতিয়ে নিতে চায়। ভয় দেখিয়ে আমাদের এক বিঘা জমি হাতিয়েও নিয়েছিল। ওই সুদের টাকা দিতে স্বামী ছোটখাট আরও কিছু দেনা করেছিল। ফলে ও দেনার দায়ে জড়িয়ে পড়ে। ওরা আমার স্বামীকে কয়েকদিন আগে তুলে নিয়ে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখায়। রবিবার সন্ধ্যার দিকে দলবল নিয়ে এসে আমাদের হুমকি দেয়। স্বামী রোজা করার জন্য ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠেন। তারপর সোমবার সকালে দোকানে গিয়েছিলেন। বাড়িতেই সুইসাইড নোট লিখে গলায় দড়ি দেন।