নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর ছুটিতে সবাই বাইরে ঘুরতে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফাঁকা। সেই খবর ছিল দুষ্কৃতীদের কাছে। নবমীর রাতেই বাড়ির পিছনের জানালার শিক কেটে দেদার লুটপাট চালায় দুষ্কৃতীরা। সোনার অলংকার থেকে শুরু করে নগদ, মূল্যবান সামগ্রী— সব হাতিয়ে ঘর লণ্ডভণ্ড করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। বেহালা, হরিদেবপুর ও গরফা থানা এলাকায় একই ঘটনা ঘটে গত বছর দুর্গাপুজোর সময়। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে লালবাজার। পুজোর সময় ফাঁকা বাড়িতে লুটপাট রুখতে অভিনব উদ্যোগ লালবাজারের। বাইক-গাড়িতে নয়, এবার সাদা পোশাকে পাড়ায় পাড়ায় অলিগলিতে রাতভর টহল দেবে পুলিশ। সব থানাকে এই নির্দেশই পাঠিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা।
উর্দিধারীরা জানিয়েছেন, পুজোর সময় প্রচুর সংখ্যক মানুষ গোটা পরিবারের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যান। কেউ পাহাড়, কেউ বা জঙ্গল, সমুদ্রে চারদিনের ছুটি কাটিয়ে আসেন। এই সময়ে ভিন রাজ্য থেকে বহু কেপমার, ছিনতাইবাজ, কলকাতায় অস্থায়ী ঘাঁটি বানায়। এই সময় মানুষের কাছে প্রচুর নগদ টাকা থাকে। ছিনতাইবাজদের দাপটও বাড়ে। প্রতিবারই সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয় লালবাজার। কিন্তু, গত বছর একই ধাঁচে বেহালা, হরিদেবপুর ও গরফায় পরপর ফাঁকা বাড়িতে চুরির পর এবার সচেতন লালবাজার। গতবছরের কেসগুলির তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে— প্রতিটি ক্ষেত্রে কোনও পরিচারক বা পরিচারিকা বাড়ি ফাঁকা থাকার খবর দুষ্কৃতীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তাই এবার স্থানীয় ‘দাগি’ দুষ্কৃতীদেরও পুলিশি স্ক্যানারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন লালবাজার-প্রধান।
পাশাপাশি, পুজোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠকে ‘এরিয়া ডমিন্যান্স’এর উপর বাড়তি নজর দেওয়ার জন্য সব থানাকে নির্দেশ দেন সিপি। কিন্তু, সেই নজরদারি থানার কোনও বাইক বা গাড়িতে চেপে নয়। মানুষের মধ্যে মিশে সাদা পোশাকে টহলদারি চালাতে হবে সব থানার বিশেষ টিমকে। এই টহলদারি বিশেষভাবে চালাতে হবে রাত ১১টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত। মধ্যরাত ও ভোররাতের এই পাঁচ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তকারী আধিকারিকদের তথ্যভাণ্ডার বলছে, গতবছরের লুটের ঘটনাগুলির প্রত্যেকটিই এই সময়ের মধ্যে ঘটেছে। তাই রাতের ওই গুরুত্বপূর্ণ পাঁচঘণ্টাকেই এবার বেছে নিয়েছে লালবাজার।
শহরবাসীর কাছে লালবাজার প্রধানের অনুরোধ, বাড়ি ফাঁকা করে ঘুরতে গেলে দরজা, জানালা বন্ধের ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকুন। কোথাও দরজা, জানালা ভঙ্গুর হলে ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আটকে রাখুন। পাড়া- প্রতিবেশীদের একটু নজর রাখার জন্য অনুরোধ করতে পারেন। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকেও বাড়তি নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।