Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলায় আবার সক্রিয় গোরুপাচার সিন্ডিকেট, মূল মাথারা বসে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে

বাংলায় আবার সক্রিয় হচ্ছে গোরু পাচারের সিন্ডিকেট। তবে সবটাই হচ্ছে বিহার, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে বসে। জাতীয় সড়ক ধরেই ট্রাক, লরি বা কন্টেনারে গোরু পাচার করা হচ্ছে।

বাংলায় আবার সক্রিয় গোরুপাচার সিন্ডিকেট, মূল মাথারা বসে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাংলায় আবার সক্রিয় হচ্ছে গোরু পাচারের সিন্ডিকেট। তবে সবটাই হচ্ছে বিহার, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে বসে। জাতীয় সড়ক ধরেই ট্রাক, লরি বা কন্টেনারে গোরু পাচার করা হচ্ছে। লরির উপরের অংশে ছাউনি থাকে। পিছনের অংশও ঢাকা দেওয়া থাকে। দামি বাস করেও গোরু পাচারের প্রমাণ পুলিস পেয়েছে। কয়েকমাস আগে এসি ভলভো বাসে গোরু তুলে উত্তর ২৪পরগনার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। মেমারি থানা এলাকায় বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়঩তেই তার পর্দাফাঁস হয়ে যায়। পুলিস বাস থেকে প্রায় ৪০টি গোরু উদ্ধার করে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন রুট ধরে বিহার থেকে এরাজ্যে গোরু ঢুকছে। পুরুলিয়া, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানের কয়েকটি রুট ব্যবহার করা হচ্ছে। বীরভূমের রামপুরহাট থানা এলাকা দিয়ে ছোট ৪০৭জাতীয় গাড়িতে করে গোরু পাচার করা হচ্ছে। এই গাড়ির উপরের অংশ ঢাকা থাকে। বাইরে থেকে কেউ কিছু টের পায় না। শুধু ‘জহুরি’রা ট্রাক বা লরি দেখে বিষয়টি ঠাহর করতে পারে।

Advertisement

বাংলাদেশে হরিয়ানার লম্বা সিং যুক্ত গোরুর চাহিদা সব থেকে বেশি। এছাড়া, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের গোরুর চাহিদাও সেদেশে রয়েছে। ওই সমস্ত রাজ্যগুলিতে পাচারকারীদের বহু সিন্ডিকেট তৈরি হয়ে গিয়েছে। জাতীয় সড়ক তাদের কাছে নিরাপদ রুট। তবে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে বাধা না পেলেও এরাজ্যের বিভিন্ন থানার পুলিস অভিযান চালিয়ে গোরু ভর্তি ট্রাক বা লরি আটক করে। সোমবার রাতে এরকমই একটি লরির পিছনে শক্তিগড় থানার পুলিস ধাওয়া করে। পুলিস হাত দেখিয়ে বারবার গাড়িটি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পুলিসও ছাড়ার পাত্র ছিল না। তারাও দ্রুতগতিতে গাড়ি ছুটিয়ে লরির সামনে দাঁড়িয়ে যায়। লরির ধাক্কায় পুলিসের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিসকর্মীরাও আহত হয়েছেন। গোরু নিয়ে যাওয়া ট্রাকের চালক এবং খালাসি জখম হয়েছে। তাই সুস্থ হওয়ার পর পুলিস তাদের জেরা করে চক্রের শিকড়ে পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, পূর্ব বর্ধমানে আসার আগে লরি বা ট্রাকগুলিকে বহু থানা পেরিয়ে আসতে হয়। সেখানে তারা খুব বেশি বাধা পায় না। বেশিরভাগ গাড়ি পূর্ব বর্ধমানেই আটক হয়। বৈধ নথি সহ কেউ গোরু নিয়ে গেলে বাধা দেওয়া হয় না। কাগজ না থাকলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে এরাজ্যে চাষ করা গোরুর খুব বেশি দাম পাওয়া যায় না। কিন্তু, হরিয়ানা বা উত্তরপ্রদেশের গোরুর দাম অনেক বেশি পাওয়া যায়। হরিয়ানার বড় আকারের গোরু বাংলাদেশি মুদ্রায় এক লক্ষ টাকাতেও বিক্রি হয়। এছাড়া, মাঝারি গোরু ৪৫-৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। বিশেষ সময়ে গোরুর দাম আরও বেড়ে যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ