সংবাদদাতা, রামপুরহাট: হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী স্বর্গের রাজা ইন্দ্র। সেজন্য দেবরাজ ইন্দ্রের রাজসভায় দেবতারা মিলিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এবার দেবরাজের সেই রাজসভার দেখা মিলবে রামপুরহাটে। সৌজন্যে রামপুরহাটের ডাকবাংলো সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। ৭৫তম বর্ষে তাদের এবারের থিম ‘ইন্দ্র রাজসভা’। রাজেট প্রায় ৮৭ লক্ষ টাকা। কলকাতাকে টক্কর দিতে তৈরি হচ্ছে তারা। বুধবার বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত সহ বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে পুজোর প্রস্তুতির সূচনা হল। মহালয়ার আগে এই মণ্ডপের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য প্রায় ৭৪ বছর ধরে রামপুরহাটের ডাকবাংলো মোড়ে সংকীর্ণ জায়গায় এই পুজো হয়ে আসছে। ৭৫তম বর্ষে পুজোয় অভিনবত্ব আনতে এগিয়ে আসেন এলাকার তৃণমূল নেতা আব্বাস হোসেন। ন’মাস আগে থেকেই এবার জাঁকজমকভাবে বিগ বাজেটের পুজো করার পরিকল্পনা করেন। সেই মতো এলাকার বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন। আশিসবাবু বিষয়টি নিয়ে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর সঙ্গে কথা বলেন। অবশেষে মন্ত্রীর পরামর্শ মতো থিম ঠিক হয় ইন্দ্র রাজসভা। কিন্তু, এতবড় আকারে পুজো করতে হলে বড় জায়গার দরকার। ঠিক হয় ডাকবাংলো মোড়ে যেমন পুজো হয় তেমনই হবে। কিন্তু, ওই ব্যানারেই থিম পুজো করার জন্য হাইস্কুলের মাঠকে বেছে নেওয়া হয়। সেই মতো জোর প্রস্ততি শুরু হয়ে গেল।
এবছর পুজো কমিটির পৃষ্টপোষক হয়েছেন আশিসবাবু নিজেই। প্রধান উপদেষ্টা পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেনবাবু। স্থানীয়দের আবেদনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এলাকার ব্যবসায়ী হায়দার আলি(আশা), কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
উদ্যোক্তারা জানান, এবার মণ্ডপ হবে ৭০ ফুট চওড়া, ১০০ ফুট লম্বা ও ৬৫ ফুট উচ্চতার। মণ্ডপ তৈরি করছেন মেদিনীপুরের শিল্পী রাজকুমার গড়ুই ও লোকনাথ জানা। খেজুর ঝাড়ু, ফোম ও কৃত্রিম ফল দিয়ে তাঁরা সাজিয়ে তুলবেন ইন্দ্রের রাজদরবার। মণ্ডপ থেকে লেজারের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে আলোর ছটা। মণ্ডপের সঙ্গে মানানসই মূর্তি তৈরি করছেন রামপুরহাটের মাঝখণ্ড গ্রামের মৃৎশিল্পী লক্ষ্মীনারায়ণ সূত্রধর। মণ্ডপ চত্বর ছাড়াও দেখা মিলবে চন্দননগরের বিখ্যাত আলোকসজ্জার।
প্রসঙ্গত দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে ডাকবাংলো পাড়া প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কালীপুজোর দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন আব্বাস সাহেব। বর্তমানে এই কালীপুজো আব্বাস কালী ও সম্প্রীতির পুজো নামেও খ্যাত। ২০১৮ সালে এই কালীপুজো কমিটি বাহুবলী সিনেমার মহেশমতি রাজপ্রাসাদের আদলে মণ্ডপ গড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। এবার দুর্গাপুজোর এই থিমও সারা ফেলে ফেলবে গোটা জেলায়। আশিসবাবু বলেন, আব্বাসের নেতৃত্বে এই পুজো অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে এই পুজো সম্প্রীতির বার্তা বহন করছে।
অন্যদিকে কমিটির সভাপতি হায়দার সাহেব বলেন, বহুদিন ধরেই এই পুজোর সঙ্গে আমি যুক্ত। ৭৫ তম বর্ষে পাড়ার মানুষ যাতে বড় আকারে পুজো হয় সেজন্য আমাকে সভাপতি করেছে। এতে আমি খুব খুশি। শহরের তথাকথিত সার্বজনীন পুজো বলতে গেলে এটিই প্রথম।
আব্বাস সাহেব বলেন, শহরের সর্বস্তরের মানুষ সহযোগিতা করছেন। মুসলিম হলেও হিন্দুদের প্রধান উৎসবে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করছেন হায়দার সাহেব। পুজো থাকবে ১১ দিন। মণ্ডপ চত্বরে বসবে মেলাও। তাঁর দাবি, এবারের থিম সকলের নজর কাড়বে।