সংবাদদাতা, বোলপুর: ২০১৫ সালে বোলপুর থানার বাহিরীর নিমতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের তিন সমর্থক খুনের ঘটনায় পুলিসের চার্জশিটে সন্তুষ্ট নয় বোলপুর আদালত। তদন্তকারী অফিসারকে বদলে নতুন অফিসার নিয়োগ করে বোলপুর থানার আইসিকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিল আদালত। এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে প্রথম চার্জশিটে জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের নাম ছিল। সোমবার বোলপুর আদালতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করেন ঘটনার তদন্তকারী অফিসার পার্থসারথি মণ্ডল। সেখানে কাজলের নাম বাদ যাওয়ায় অভিযোগকারীরা অসন্তুষ্ট হন। তার প্রেক্ষিতে পুনরায় ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিল আদালত।
স্থানীয় ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বোলপুর থানার বাহিরী-পাঁচশোয়া পঞ্চায়েতের নিমতলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে প্রকাশ্য দিবালোকে তৃণমূল কংগ্রেসের তিন সমর্থককে গুলি করে খুন করা হয়। নিহত তিনজন হলেন নানুর থানার পাপুড়ি গ্রামের কুরবান শেখ, বোলপুর থানার বড়শিমুলিয়া গ্রামের বুড়ো শেখ ও মুলুক গ্রামের মোর্তজা শেখ। ঘটনার পর নিহত কুরবান শেখের বাবা গিলাই শেখ বোলপুর থানায় ২২ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি লিখেন, ঘটনার দিন, দুপুরে কুরবানরা তিনজন বাইক ও স্কুটারে করে বোলপুর থেকে পাপুড়ি ফিরছিলেন। এমন সময় নিমতলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে অ্যাম্বুলেন্সে তাদের ধাক্কা দেওয়ার পর এলোপাথাড়ি গুলি করে খুন করা হয়। নানুরের তৃণমূল নেতা কাজল শেখ ওই খুনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্ত শুরু করে বোলপুর থানার পুলিস। এরপর অভিযোগে আরও ছ’জনের নাম যুক্ত হয়। প্রথম তদন্তের চার্জশিটে কাজল শেখের নাম ছিল। তারপরেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। যদিও কাজল, আদালতকে জানান, ঘটনার দিন তিনি কলকাতায় ছিলেন। ওইদিন বিধানসভায় পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। তিনি বিধানসভার ওই দিনের গেটপাশ বোলপুর আদালতে দাখিল করেন। তার প্রেক্ষিতে বোলপুর আদালত আগেও বেশ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় এযাবৎ বেশ কয়েকজন তদন্তকারী অফিসার তদন্ত করেছেন। সর্বশেষ সোমবার মামলাটি ফের বোলপুর আদালতে ওঠে। সর্বশেষ, গত মার্চ মাসে মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করেন তদন্তকারী অফিসার পার্থসারথি মণ্ডল। সেখানে কাজল শেখের নাম বাদ যায়। আর তাতেই অসন্তুষ্ট হন নিহতদের পরিবার। তাদের অভিযোগ, চার্জশিটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। এরপরই অভিযোগকারীরা এপ্রিল মাসে ‘নারাজি’ পিটিশন দাখিল করে পুনরায় তদন্তের আবেদন করেন। এরপর সোমবার বিচারক স্মরজিৎ রায় সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে দরখাস্ত মঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী ফিরোজ পাল। তিনি বলেন, বিচারক বোলপুর থানার আইসিকে মামলাটি নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, নতুন তদন্তকারী অফিসারকে নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কাজল শেখ বলেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আমার, আমার পরিবার ও দলের সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। আদালতে সুবিচার ঠিকই পাব।