Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে সিভিক নিয়োগেও মামলা

দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে সিভিক নিয়োগেও মামলা
  • ২১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে ভিড় ও যান নিয়ন্ত্রণে ১০০সিভিক ভলান্টিয়ারের জন্য এক হাজার আবেদন জমা পড়ল। ১৯ মে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদন জমা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সিভিক নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলা হয়েছে।  কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়াই ধর্মীয় স্থানে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ এবং বিজ্ঞপ্তিতে যেভাবে শুধুমাত্র স্থানীয় দুটো থানা এলাকার বাসিন্দাদের আবেদনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাকে চ্যালেঞ্জ করেই মামলা। এই মামলার ফলে আপাতত নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ স্থগিত থাকবে। আদালতের নির্দেশ এলেই পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জেলা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement

গত ৮মে জেলা পুলিস সুপার দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে ভিড় এবং ট্রাফিক সামলানোর জন্য একশো সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেন। শুধুমাত্র দীঘা এবং দীঘা মোহনা কোস্টাল থানা এলাকার বাসিন্দারা এই নিয়োগে আবেদন করতে পারবেন বলে জানানো হয়। ওই দুই থানা থেকে ফর্ম তোলার পর তা জমা পড়েছে। একশো শূন্যপদের জন্য এক হাজার আবেদন জমা পড়েছে বলে খবর। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর ঠিকানা দীঘা এবং দীঘা মোহনা কোস্টাল থানা উল্লেখ থাকলেও জেলার অন্য থানা থেকে বেশকিছু আবেদন জমা পড়েছে। শুধু তাই নয়, অন্য জেলা থেকেও কয়েকটি আবেদন এসেছে। তবে, মামলা দায়ের হওয়ার পর আবেদন জমার সংখ্যা দ্রুত কমেছে। আপাতত ওইসব আবেদন ফাইলবন্দি থাকছে। কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেলা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সিভিক রিক্রুটমেন্ট গাইডলাইন-’১৭ নিয়ম মেনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগে সংশ্লিষ্ট থানার বাসিন্দারাই সুযোগ পেয়েছেন। এক থানার বাসিন্দা অন্য থানা এলাকায় সিভিক ভলান্টিয়ারের নিয়োগের আবেদন করতে পারেন না। কারণ, তাঁদের পরিবহণ, থাকা কিংবা খাওয়ার জন্য আলাদা অর্থ দেওয়া হয় না। তাই স্থানীয়দের মধ্য থেকেই প্রত্যেক থানায় সিভিক নিয়োগ হয়েছে। সেই নিয়মে জগন্নাথ মন্দিরে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগে দীঘা এবং দীঘা মোহনা কোস্টাল থানার বাসিন্দাদের সুযোগ দেওয়া হয়। রাজ্য মন্ত্রিসভা এই নিয়োগে ছাড়পত্র দিয়েছে। অর্থদপ্তর থেকেও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র এসে গিয়েছিল। তাই একশো জনের কর্মসংস্থানের বিষয়টি আপাতত ঠাণ্ডা ঘরে চলে গেল।
এই মুহূর্তে প্রতিদিন দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উপচেপড়া ভিড় হচ্ছে। বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত একেবারে জনসমুদ্রের চেহারা। এই ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন থানা থেকে পুলিস কর্মী এবং সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে সাতটি থানা থেকে প্রায় ২২৫জন সিভিক ভলান্টিয়ার সেখানে আছেন। স্থানীয় এলাকা থেকে সিভিক নিয়োগ হলে অন্য থানা থেকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। গোটা প্রক্রিয়া অথৈ জলে চলে যাওয়ায় আবেদনকারীরাও বেশ হতাশ।
আগামী ২৭ জুন রথযাত্রা। এবার দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে জমজমাট রথযাত্রা হবে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে দীঘার হোটেলে দেদার বুকিং চলছে। অনেকেই বলছেন, রথযাত্রা পর্যন্ত দীঘায় জগন্নাথ প্রভুর নব আলয়ে জনস্রোত বইবে। সেই জনপ্লাবন নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই একশো সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। জনস্বার্থ মামলার জেরে আপাতত তা ঠাণ্ডাঘরে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ