Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অভিনব কায়দায় ফাঁদ পেতে দম্পতির সোনার গয়না লুট

কুড়িয়ে পাওয়া টাকার ভাগ নেওয়ার নামে অভিনব কায়দায় ফাঁদ পেতে পটাশপুরের এক দম্পতির কাছ থেকে চার লক্ষ টাকার সোনার গয়না লুট করল তিন দুষ্কৃতী।

অভিনব কায়দায় ফাঁদ পেতে দম্পতির সোনার গয়না লুট
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কুড়িয়ে পাওয়া টাকার ভাগ নেওয়ার নামে অভিনব কায়দায় ফাঁদ পেতে পটাশপুরের এক দম্পতির কাছ থেকে চার লক্ষ টাকার সোনার গয়না লুট করল তিন দুষ্কৃতী। তমলুক শহরের প্রাণকেন্দ্র হাসপাতাল মোড় থেকে ওই দম্পতিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ভিতর নিয়ে গিয়ে এই প্রতারণা করা হয়। প্রতারিত দম্পতি নারায়ণচন্দ্র পালই ও কৃষ্ণা পালইয়ের বাড়ি পটাশপুর থানার মঙ্গলামাড়ো সংলগ্ন সাহাপুর গ্রামে। খোয়া যাওয়া সোনার গয়নার মধ্যে কৃষ্ণাদেবীর একটি সোনার হার, একজোড়া সোনার বাউটি, একজোড়া সোনার চুড়ি ও একটি সোনার আংটি রয়েছে। গত ১৭অক্টোবর ওই ঘটনার পর নারায়ণবাবু তমলুক থানায় এফআইআর করেন। হাসপাতাল মোড়ে সিসি ক্যামেরায় দুষ্কৃতীদের ছবিও ধরা পড়েছে। তমলুক থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর মানিকলাল কর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন।

Advertisement

অভিযোগকারী নারায়ণচন্দ্রবাবু একটি মিষ্টির দোকানের কর্মী। নন্দকুমার থানার ঠেকুয়াবাজারে তাঁর বড়দির বাড়ি। আর শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের নুন্নান গ্রামে তাঁর মেজদির বাড়ি। নারায়ণচন্দ্রবাবু সস্ত্রীক ঠেকুয়াবাজার থেকে মেজদির বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেইমতো ঘটনার দিন তিনি স্ত্রীকে ঠেকুয়াবাজারে একটি অটোয় তুলে তমলুক শহরে হাসপাতাল মোড়ে পাঠিয়ে দেন। নিজে একটি সাইকেলে ঠেকুয়া থেকে হাসপাতাল মোড়ে আসেন। সেখান থেকে দু’জনে সাইকেলে নুন্নান গ্রামে যাবেন বলে ঠিক ছিল।
কৃষ্ণাদেবী খুঁড়িয়ে হাঁটেন। হাসপাতাল মোড়ে রাস্তা পারাপারের সময় নারায়ণবাবু সাইকেল ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। পিছনে কৃষ্ণাদেবীকে সাহায্য করার অছিলায় এক অচেনা যুবক এগিয়ে আসে। রাস্তা পার করার পরই তক্ষুণি দ্বিতীয় এক ব্যক্তি চলে আসে। সেই ব্যক্তি একটি টাকার বান্ডিল দেখিয়ে জানায়, সেটি কুড়িয়ে পেয়েছে। কোথায় জমা করতে হবে? জবাবে প্রথম যুবক জানায়, হাসপাতাল মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের বুথে জমা করলে হবে। ওই দম্পতিকে পাশে রেখে দুই যুবকের ওই কথোপকথন হয়। তারপর দ্বিতীয় যুবক সেখান থেকে চলে যায়। এরমধ্যে তৃতীয় এক যুবক চলে আসে। তার টাকা খোয়া গিয়েছে এবং কাউকে কুড়াতে দেখেছে কি না সে জানতে চায়। প্রথম যুবক ওই দম্পতির সঙ্গে কথা বলতে বলতে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুরনো ওপিডি বিল্ডিংয়ের কাছে গেট দিয়ে ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে আরও একবার দ্বিতীয় অচেনা যুবক সেই নকল টাকার ব্যাগ নিয়ে হাজির হয়। ওই দম্পতির সামনে নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার গল্প তৈরি করে। ওই দম্পতিকেও তার ভাগ দেওয়ার লোভ দেখায়।
হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ভিতর ওই দুই যুবক এও জানায়, কিছুক্ষণ আগে হাসপাতাল মোড়ে এক মহিলার সোনার গয়না চুরি হয়েছে। সেই জন্য নারায়ণচন্দ্রবাবুর স্ত্রীর সব গয়না খুলে ব্যাগে রাখাটাই নিরাপদ। ওই কথা শুনে তিনি সব গয়না খুলে স্বামীর ব্যাগে রাখেন। টাকার বান্ডিলের মতো হুবহু দেখতে একগোছা পেপারের উপর একটি ২০টাকার নোট সাঁটানো বান্ডিলও সেই ব্যাগে ভরে দেয় দুষ্কৃতীরা। তারপর নারায়ণবাবুর মুহূর্তের অসাবধানতনায় তারা সোনাভর্তি পুঁটলি নিয়ে চম্পট দেয়। প্রতারণায় শিকার হয়ে ওই দম্পতি সেখানেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। নারায়ণবাবু বলেন, ওইভাবে কেউ প্রতারণা করতে পারে, তা ভাবতেই পারিনি। গোটা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ