সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: পাশাপাশি দু’টি রুমে এক দম্পতি ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ময়নাগুড়ির দক্ষিণ মাধবডাঙায় শুক্রবার রাতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্ত্রীর মৃত্যু হলেও ঘটনাচক্রে বেঁচে যান স্বামী। তাঁর চিকিৎসা চলছে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। মৃত বধূর বাপের বাড়ির তরফে শনিবার ময়নাগুড়ি থানায় জামাইয়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে খুনের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে ময়নাগুড়ি থানার পুলিস জানিয়েছে।
ন’বছর আগে জলপাইগুড়ির বিবেকানন্দপল্লির শচীন্দ্র বিশ্বাসের মেয়ে শেফালি বিশ্বাস রায়ের (২৮) সঙ্গে বিয়ে হয় ময়নাগুড়ির দক্ষিণ মাধবডাঙার বাপ্পা রায়ের। তাঁদের দু’টি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ, কয়েক বছর আগে শেফালি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী এক মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছেন। প্রতিবাদ করতেই শুরু হয় অত্যাচার। বিষয়টি নিয়ে গৃহবধূ তাঁর বাপের বাড়িতে জানালে ময়নাগুড়িতে সালিশি সভাও করা হয়েছিল।
বাপ্পার কাকিমা জ্যোৎস্না রায় বলেন, শুক্রবার সকাল থেকেই ওদের দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ওদের বাড়িতে গিয়ে মিটিয়ে দিয়ে আসি। রাতে বাপ্পার মেয়ে আমাদের বাড়ি এসে বলে, মা ঘরের দরজা বন্ধ করে রেখেছে। আমি ওদের বাড়িতে যাই। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় শাবল দিয়ে দরজা খুলে দেখি শেফালি ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। শাড়ি দিয়ে ফাঁস লাগানো। পাশের ঘরে গিয়ে দেখি বাপ্পাও ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এরপর আমরা দু’জনকেই উদ্ধার করে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসক শেফালিকে মৃত বলে জানান। বাপ্পা জলপাইগুড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বধূর দাদা রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বোনের উপর জমাই নিয়মিত অত্যাচার করত। আসলে বোনজামাই পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়ায় বোন প্রতিবাদ করত। এনিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বসা হয়েছিল। কিন্তু এরপরেও অত্যাচার চলতে থাকে বোনের উপর। অত্যাচারের মাত্র বেড়ে যাওয়ায় বোন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে, না হলে ওকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়ে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বাপ্পা। বোনজামাই সহ ওর পরিবারের তিনজনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। পুলিস তদন্ত করে অভিযুক্তদের শাস্তির ব্যবস্থা করুক।
ময়নাগুড়ি থানার এক অফিসার জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি বাপ্পা রায় সুস্থ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মৃত শেফালি।