নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জামালপুরের নসিপুর গ্রামে সোমবার রাতে বাড়ির মধ্যে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিলেন ইউনুস মল্লিক (৫৭) এবং রিজিয়া বেগম মল্লিক (৫৩)। কিন্তু, মঙ্গলবারের সকাল আর তাঁরা দেখতে পেলেন না। ভোরের দিকে মাটির বাড়ি হুড়মুড়িয়ে তাঁদের উপর ভেঙে পড়ে। বাড়ি ভাঙার শব্দ পেয়ে গ্রামের লোকজন ছুটে আসেন। বাড়ির কাছে এসে তাঁরা পরিণতি বুঝে যান। তারপর মাটি সরিয়ে ওই দম্পতিকে উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা করেন। কিন্তু, তা সম্ভব হয়নি। পরে মেশিন এনে মাটি সরানো হয়। ততক্ষণে স্বামী এবং স্ত্রী মৃত্যুর হয়েছে। তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিস ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পর শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়ে বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের নসিপুরের বাসিন্দারা। এদিন অনেক বাড়িতেই হাঁড়ি চড়েনি। এই ঘটনার পর গ্রামের বাসিন্দারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন। গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুল রহমান মল্লিক বলেন, এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দায়ী। তারা আবাস যোজনা প্রকল্পের টাকা দিচ্ছে না। মাটির বাড়িতে অনেককেই ঝুঁকি নিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে। রাতে ঘুমানোর পর আদৌ আর পরের দিনের সকাল দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে ওই মাটির বাড়িটি দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। ওঁরা ঝুঁকি নিয়েই সেখানে রাত কাটাচ্ছিলেন।
স্থানীয়রা বলেন, ওই দম্পতি দিনমজুরের কাজ করতেন। বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও এক ছেলে থাকতেন। সোমবার রাতে ছেলে অন্য একটি বাড়িতে ছিলেন। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, আমরা বেশকিছু পরিবারের সদস্যদের অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করেছি। ঝুঁকি নিয়ে মাটির বাড়িতে থাকা উচিত নয়। যাঁদের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের বলব প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। ওই দম্পতির মৃত্যুর পর আধিকারিকরা গ্রামে গিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে জেলার কয়েক হাজার পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকার জেলার বাসিন্দাদের পাশে রয়েছে। কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনা প্রকল্পের টাকা আটকে দিয়ে জেলার বাসিন্দাদের বঞ্চিত করেছে বলে জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খানের দাবি। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার ভালো চায় না। তাদের জন্যই বহু পরিবারকে আতঙ্কে মাটির বাড়িতে দিন কাটাতে হচ্ছে।
মৃতদের আত্মীয় শেখ ইদ্রিস বলেন, গ্রামের সকলে তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ আওয়াজ শুনে সকলে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। মাটির নীচে চাপা থাকায় প্রথম দিকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করা যায়নি। বেশ কিছুক্ষণ পর মেশিনের মাধ্যমে মাটি সরিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।