Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যুবতীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় দম্পতিকে বেধড়ক মার, গলসিতে চাঞ্চল্য, ৩ সপ্তাহ পরও গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্তরা

রাতের দিকে গ্রামের রাস্তা ধরে এক যুবতী হেঁটে যাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকা দু’জন তাঁর পথ আটকায়। তারা কুপ্রস্তাব দেয়

যুবতীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় দম্পতিকে বেধড়ক মার, গলসিতে চাঞ্চল্য, ৩ সপ্তাহ পরও গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্তরা
  • ১৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাতের দিকে গ্রামের রাস্তা ধরে এক যুবতী হেঁটে যাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকা দু’জন তাঁর পথ আটকায়। তারা কুপ্রস্তাব দেয়। তাতে তিনি রাজি হননি। তখন তাঁর হাত ধরে টানাটানি শুরু হয়। প্রাণভয়ে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। তাঁকে বাঁচাতে এক দম্পতি বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। দুষ্কৃতীরা তাঁদের মাটিতে ফেলে বেধড়ক পেটাতে থাকে। ওই যুবতীর মাথাতেও বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়। তাঁরা রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। ওই দুই দুষ্কৃতী তাঁদের গ্রাম ছাড়া করা হুমকি দেয়। ওই যুবতীর মাথায় তিনটি সেলাই পড়েছে। গলসির রামগোপালপুরে কয়েকদিন আগে এই ঘটনা  হলেও দুষ্কৃতীরা অধরা থেকে গিয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। 

Advertisement

স্থানীয়রা বলেন, অভিযুক্তদের মাথার উপর এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালীর হাত রয়েছে। ওই এলাকায় বালির কারবার রয়েছে। সেই কারবারের সঙ্গেও তারা যুক্ত। সেই কারণেই অধরা থেকে গিয়েছে। ওই যুবতী বলেন, ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছি। ওরা প্রায়ই হুমকি দিচ্ছে। গলসি থানার পুলিস কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা বোঝা যাচ্ছে না। দুষ্কৃতীদের মারে জখম ব্যক্তি বলেন, গ্রামের রাস্তায় এক যুবতীকে হেনস্তা করা হচ্ছিল। হাত ধরে টানাটানি করছিল অভিযুক্তরা। যুবতীর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। তারপরও দুষ্কৃতীরা অধরা থেকে গিয়েছে। তারা গ্রামছাড়া করা হুমকি দিয়েছে। পুলিস ব্যবস্থা না নিলে ওরা সেটাই করা হবে। গত ২৯ জুন রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরের দিনই থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তারপর প্রায় ২০ দিন কেটে গেলেও দুষ্কৃতীরা অধরা থেকে গিয়েছে। জখমদের দাবি, ওই ঘটনায় আরও একজন যুক্ত রয়েছে। তার নাম এফআইরে রাখা হয়নি। বাকি দু’জনকেও আড়াল করা হচ্ছে। জখম ওই ব্যক্তি আরও বলেন, ওরা আমাদের উপর আবার যে কোনও সময় হামলা করতে পারে। এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবে না। এটা তারা ভেবেই নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, এলাকার বালিঘাট ওই দুষ্কৃতীদের নিয়ন্ত্রণে। কোন রাস্তায় ওভারলোডেড বালির গাড়ি যাবে সেটাও তারা ঠিক করে। সেই কারণেই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে না। নিরাপত্তার দাবিতে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবতী জখম দম্পতির বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। সেই রাতে ডাক্তার দেখানোর জন্য টাকা আনতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর উপর আক্রমণ হয়। ওই যুবতী বলেন, দুষ্কৃতীরা মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে মনে হয়। ওরা বেশ কিছুক্ষণ ধরে হাত ধরে টানাটানি করে। পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এরকম কিছু হয়ে থাকলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ