Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক দম্পতির সংখ্যা হাজার স্কুলে ফেরাতে কাউন্সেলিং ব্লক প্রশাসনের

যার জেরে কাটোয়া-১ ব্লকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দম্পতির সংখ্যা হাজার ছুঁয়েছে।

কাটোয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক দম্পতির সংখ্যা হাজার স্কুলে ফেরাতে কাউন্সেলিং ব্লক প্রশাসনের
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কথায় বলে প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে। না হলে মেলায় গিয়ে ভালোবাসার পাত্র খুঁজে গোপনে ছাদনাতলায় বসে পড়ছে কেউ, আবার কেউ বন্ধুর রিলসে মজে স্কুল পালিয়ে তার সঙ্গেই চুপি চুপি বিয়ে সেরে নিচ্ছে। যার জেরে কাটোয়া-১ ব্লকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দম্পতির সংখ্যা হাজার ছুঁয়েছে। এবার তাদের স্কুলে ফেরাতে উদ্যোগ নিল ব্লক প্রশাসন। বুধবার কাটোয়ার শ্রীখণ্ডে মনোবিদ ডেকে পড়ুয়াদের কাউন্সেলিং শুরু করে ব্লক প্রশাসন।

Advertisement

কাটোয়া-১ বিডিও ইন্দ্রজিৎ মারিক বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক দম্পতির সংখ্যা বেড়েছে। আমরা তাদের উদ্ধার করে স্কুলে ফেরাচ্ছি। পাশাপাশি মনোবিদ দিয়ে তাদের কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে। 
বয়ঃসন্ধিকালে মোবাইলের রিলস দেখে গ্রামাঞ্চলে অনেক ছেল-মেয়েই স্কুলের পাট চুকিয়ে দিচ্ছে। তারা রীতিমতো বাবা-মাকে না জানিয়েই ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে চুপিসারে বিয়ে সেরে ফেলছে। এক্ষেত্রে শুধু মেয়েরাই নয়, ছেলেদের বয়সও ২০-২১ এর মধ্যে রয়েছে। এমন অপ্রাপ্তবয়স্ক দম্পতির সংখ্যা ১০০০ এর কাছাকাছি পৌঁছেছে কাটোয়া-১ ব্লক এলাকায়। এতে স্কুল শিক্ষাদপ্তরও উদ্বিগ্ন। তাই স্কুল পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য মনোবিদ ডেকে কাউন্সেলিং শুরু করল প্রশাসন। দেখা যাচ্ছে, সপ্তম, অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যেই এমন প্রবণতা বেশি। আসলে মোবাইলের রিলস ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এসব কিশোর, কিশোরীর মন থেকে সারল্য, শৈশব কেড়ে নিচ্ছে। যার জেরে পড়াশোনা শিকেয় তুলে নাবালিকারা অল্প বয়সি কিশোর বা যুবকদের হাত ধরছে। এর মধ্যে ঝোঁকের বশে বিয়ে করে অনেকের আবার কিছুদিনের মধ্যেই তা ভেঙে যাচ্ছে। কিন্তু, তাতে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে অনেকে আবার আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছে। কাজেই ভয়ঙ্কর এই প্রবণতার হাত থেকে  পরিত্রাণ পেতে মনোবিদের দ্বারস্থ হয়েছে কাটোয়ার পশ্চিমচক্রের স্কুল শিক্ষাদপ্তর।
এদিন কাটোয়া-১ ব্লকের শ্রীখণ্ড পঞ্চায়েতের সভাঘরেই পড়ুয়াদের কাউন্সেলিং করানো হয়। উপস্থিত ছিলেন কাটোয়া-১ বিডিও, পশ্চিম চক্রের স্কুল পরিদর্শক ফ্যান্সি মুখোপাধ্যায়, কালনা মহকুমা হাসপাতালের মনোবিদ পূজা মুখোপাধ্যায় সহ অভিভাবকরা। সেখানে বহু পড়ুয়াই তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে।
কাটোয়ার শ্রীখণ্ড গ্রামের সপ্তম শ্রেণির এক পড়ুয়াকে সেখানে আনা হয়। ওই পড়ুয়া পড়াশোনা ছেড়ে কয়েক মাস আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসে। ওই নাবালিকাকে এদিন বিডিও জিজ্ঞাসা করতেই সে বলে, শ্রীখণ্ড মেলায় গিয়ে এক অল্পবয়সি যুবকের প্রেম পড়ে তাকে বিয়ে করে ফেলি। তবে আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। তাই নতুন করে স্কুলেও ভর্তি হয়েছি। 
মনোবিদ বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার অনেকগুলি কারণ রয়েছে। তারমধ্যে একটা হচ্ছে মোবাইল। কাজেই অভিভাবক থেকে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা সবার কিশোর, কিশোরীদের মোবাইলের কিছু খারাপ প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। তবে এদিন দশম শ্রেণির ছাত্রী রিম্পা খাতুন, নবম শ্রেণির পড়ুয়া জামিলা খাতুন বলে, আগে বড় হয়ে চাকরি করব। তারপর বিয়ে।
স্কুল পরিদর্শক বলেন, বয়ঃসন্ধিকালের মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিই মূল লক্ষ্য। তার জন্য এই কাউন্সেলিং জরুরি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ