নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচিতে এসে কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিলেন নাগরিকরা। বাসিন্দাদের ক্ষোভ, নির্বাচনের পর থেকে কাউন্সিলারকে ওয়ার্ডে দেখতেই পাওয়া যায় না। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে নিকাশি নালার অবস্থা বেহাল। দখল হয়ে যাচ্ছে সরকারি খাস জমি। ভরাট হয়ে যাচ্ছে পুকুর। ট্যাপকলে সময়ে জল পাওয়া যায় না। জ্বলে না পথ বাতি। ক্ষোভের মুখে পড়ে বিড়ম্বনায় পড়েন কাউন্সিলার, পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান, সহ শাসক দলের নেতা কর্মীরা।
বুধবার পুরুলিয়া পুরসভার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আয়েশা কাচ্ছি উর্দু হাইস্কুলে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবির হয়। শিবিরে হাজির হয়েছিলেন ওয়ার্ডের কাউন্সিলার আনোয়ারি বিবি, পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি সহ তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা। শিবিরে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে এসে পুর প্রতিনিধিদের সামনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ। অনেকেই কাউন্সিলারকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, আমাদের সমস্যার সমাধান করবেন বলেই তো আপনাকে জিতিয়ে এনেছিলাম। কিন্তু, আপনি আমাদের জন্য কী করেছেন? আপনাকে তো এলাকায় দেখতেই পাওয়া যায় না।
এদিনের শিবিরে এসে স্থানীয় বাসিন্দা আসগার কাচ্ছি বলেন, আমাদের ওয়ার্ডের বহু অংশে এখনও বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছয়নি। রাস্তার কলে জল সময়ে আসে না। কোনওদিন সকাল সাড়ে ৭টায় জল আসে, আবার কোনওদিন ১০টায়। অনেকসময় সময় সরু সুতোর মতো জল পড়ে। নিকাশি নালাগুলি আবর্জনায় ভর্তি হয়ে রয়েছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয় না। রাস্তার ধারের পথবাতিগুলি জ্বলে না। আর এক বাসিন্দা শওকত পারভেজ বলেন, এলাকার বহু রাস্তার বেহাল অবস্থা। অভিযোগ যে জানাব, কাউন্সিলারকে তো দেখতেই পাওয়া যায় না! কাউন্সিলারের তো উচিত এলাকায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলিকে প্রশাসনের নজরে আনা। কিন্তু, তা না করে তিনি বসে বসে সরকারি ভাতা ভোগ করেন কেবল।
এনিয়ে কাউন্সিলার আনোয়ারি বিবি কিছু বলতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, আমার শরীর খারাপ। যা বলার আমার ছেলে বলবে। কাউন্সিলারের ছেলে শেখ শাহিদ বলেন, মায়ের শরীর খারাপ বলেই দেখতে পাওয়া যায় না। মায়ের হয়ে ওয়ার্ডের ভালোমন্দ আমিই দেখাশোনা করছি। ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ক্ষোভের কারণকে মান্যতা দিয়ে তিনি বলেন, জলের সমস্যা সত্যিই রয়েছে। ওয়ার্ডের বেশ কিছু রাস্তাঘাটের অবস্থাও বেহাল। অর্থের অভাবে রাস্তাগুলি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। সমস্যার সমাধান করা হবে শীঘ্রই।
বাসিন্দাদের এই ক্ষোভকে অবশ্য ‘পজিটিভ’ ভাবেই দেখতে চাইছেন পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার তথা তৃণমূলের শহর সভাপতি প্রদীপ ডাগা। তাঁরা বলেন, বাসিন্দাদের এই ক্ষোভের কথা শুনতেই তো এই কর্মসূচি চালু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আশা করছি, এবার সমাধান হবে।