নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কাটোয়ায় ধান কেনা নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামল প্রশাসন। কয়েক দিন আগে কাটোয়া-২ ব্লকের শ্রীবাটি পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা লিখিতভাবে বিডিওর কাছে অভিযোগ করেন। তাতে বলা হয়, মূলগ্রামে কয়েক দিন আগে ধান কেনার জন্য ক্যাম্প করা হয়। কিন্তু আগে থেকে এলাকায় প্রচার করা হয়নি। গোপনভাবেই তা করা হয়। চাষিরা ধান বিক্রি করেনি অথচ খাতায়কলমে ধান কেনা হয়েছে বলে দেখানো হয়। তারা ফড়ে বা দালালদের মাধ্যমে চাষিদের নথি সংগ্রহ করে। ধান বিক্রির টাকা সাজানো কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। পরে চাষিদের কিছু টাকা দিয়ে বাকিটা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ওই অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে বলে একটি তালিকা পঞ্চায়েত অফিসে পাঠানো হয়। ১, ২, ১৬, ২৭, ৩৬ ও ৪৬ পাতায় যাদের নাম রয়েছে, তাঁরা সকলেই বাইরে এলাকার বাসিন্দা। ৫৫, ৬০, ৭০, ৭৬, ৭৯ এবং ৮২ পাতায় নাম থাকা চাষিরাও এলাকার নন। ৮৭ থেকে ৯৮ পাতার তালিকাতেও গরমিল রয়েছে। মাস্টাররোলে কয়েকজন চাষির কাছে ৩০ থেকে ৯০ কুইন্টাল ধান কেনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ তাদের এক থেকে পাঁচ শতকের বেশি জমি নেই। এলাকার একটি সঙ্ঘ অনিয়মে যুক্ত রয়েছে। ওই সঙ্ঘের সদস্যরাও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। ৯৫ শতাংশ চাষির টিপসই ও সই নকল করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। কাটোয়া-২ ব্লকের বিডিও আসিফ আনসারি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি খাদ্যদপ্তরকে তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, খাদ্যদপ্তর ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। যেসব চাষির নাম মাস্টাররোলে রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের সত্যতা রয়েছে কি না তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। এছাড়া যাদের বহিরাগত চাষি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা আদতে কোথাকার বাসিন্দা সেটাও তারা খোঁজ নিয়ে দেখছে। নিয়ম অনুযায়ী কোথাও ক্যাম্প হলে এলাকার চাষিরা ধান বিক্রি করেন। কাটোয়ায় ক্যাম্প হলে রায়নার চাষিরা ধান বিক্রি করতে পারেন না। একইভাবে রায়নায় ক্যাম্প হলে ওই এলাকার চাষিরাই ধান বিক্রি করবেন। তা নাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এক আধিকারিক বলেন, সিপিসি ছাড়া আরও কয়েকটি সংস্থা ধান কেনে। এছাড়া স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং সমবায় সমিতিগুলিও ধান কেনে। সংস্থাগুলি ঠিকমতো ধান কিনছে কী না তা দেখতে আধিকারিকরা নজরদারি চালান। চাষিরা বলেন, ধান চাষের মরশুম শুরু হয়েছে। এই সময় প্রত্যন্ত এলাকায় ক্যাম্প করা হলে চাষিরা উপকৃত হবেন। ধান বিক্রির টাকাতেই তাঁরা চাষের খরচ জোগাড় করেন।



