Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণ ঢুকতেই প্রকাশ্যে নেওয়া হচ্ছে ‘কাটমানি’!

দুর্গতদের জন্য রাজ্য সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে প্রকাশ্যে কাটমানি তোলার অভিযোগ উঠল বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণ ঢুকতেই প্রকাশ্যে নেওয়া হচ্ছে ‘কাটমানি’!
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: দুর্গতদের জন্য রাজ্য সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে প্রকাশ্যে কাটমানি তোলার অভিযোগ উঠল বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ধূপগুড়ির বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধূপগুড়ির বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দামবাড়ির ১৫/১৬১ নম্বর বুথের বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য পূর্ণিমা সরকার ও তাঁর স্বামী সাধন সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতেই তাঁদের বাড়িতে হানা দিচ্ছেন। একাধিক দুর্গতের বাড়িতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবিও করেছেন। অনেকের কাছ থেকে সেই টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। এখানেই থেমে না থেকে ক্ষতিপূরণের দ্বিতীয় কিস্তি এলে ফের ১০ হাজার টাকা দিতে হবে, না হলে বিজেপির লোকজন নিয়ে এসে ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। 
ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়ায়। প্রশ্ন উঠেছে, এই কাটমানির টাকা কি বিজেপির ব্লক নেতৃত্ব পর্যন্ত যাচ্ছে? তৃণমূল কংগ্রেসের ধূপগুড়ি গ্রামীণ ব্লক সভাপতি মলয় রায় বলেন, বিজেপির ব্লক নেতাদের নির্দেশেই পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামী দুর্গতদের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না দিলে বিজেপির তরফে মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। 
যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির ব্লক নেতা মাধব রায়। তাঁর দাবি, তৃণমূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী সাধন সরকারও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি কারও কাছে টাকা চাইনি। আমার স্ত্রীও টাকা নেয়নি। 
এদিকে, চাপে পড়ে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামী দামবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৈঠক করেন। অভিযোগ, যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল বা দাবি করা হয়েছিল তাঁদের হাতে-পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়া হয় এবং টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। 
স্থানীয় বাসিন্দা অঞ্চল বিশ্বাস, সুজলা বিশ্বাস ও মালতি বিশ্বাস জানান, ক্ষতিপূরণের টাকা ঢোকায় আমাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়েছে। বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ফণীন্দ্রনাথ রায় বলেন, এটি অন্যায় কাজ। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ