Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুর্নীতির অভিযোগ, পঞ্চায়েত প্রধানের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, বাদুড়িয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য

বাদুড়িয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে পঞ্চায়েত প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বিস্তারিত পড়ুন।

দুর্নীতির অভিযোগ, পঞ্চায়েত প্রধানের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, বাদুড়িয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, বসিরহাট: কয়েকদিন আগে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল গ্রামবাসীরা। উঠেছিল দুর্নীতির অভিযোগ। এই আবহে সেই তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল। ঘটনাকে ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত পঞ্চায়েত প্রধানের নাম জাহিদুল হক বৈদ্য। তিনি যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে বাদুড়িয়ার পিঙ্গলেশ্বর গ্রামে তাঁর বাড়ির একটি ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, সকালে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘরে ঢুকে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। বাদুড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। নিয়ে যাওয়া হয় রুদ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। পরে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি আত্মহত্যারই ঘটনা। তবে মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে তারা। 

Advertisement

এদিকে, জাহিদুলের মৃত্যু ঘিরে সামনে আসছে কয়েকদিন আগের এক বিতর্ক ও চাপানউতোর। ৩১ মে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরা অভিযোগ অনে, তিনি ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর আওতায় পাওয়া ব্যাটারিচালিত ময়লাবাহী গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতকে ১২টি ব্যাটারিচালিত ময়লাবাহী গাড়ি দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে কয়েকটির কোনো হদিশ মিলছিল না। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, গাড়িগুলি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আত্মসাৎ করা হয়েছে সরকারি টাকা। সেই অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনেকে। প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তাঁকে গ্রেপ্তার করার দাবিও ওঠে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে বাদুড়িয়া থানা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেই সময় জাহিদুলকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর উপর যথেষ্ট আর্থিক চাপও ছিল। ঠিকাদারদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দিতে পারছিলেন না তিনি। ঋণের বোঝা ক্রমশ বাড়ছিল। সেই কারণেও মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। পরিবারে দাবি, গত কয়েকদিন ধরে খুবই বিমর্ষ দেখাচ্ছিল জাহিদুলকে। নানা অভিযোগ এবং তদন্তের গেরোয় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর এক আত্মীয় বলেন, ‘গাড়ি নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ওঁকে নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা চলছিল। বাড়ির সামনে বিক্ষোভও হয়েছে। তারপর থেকে খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন।’ পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। -ফাইল চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ