Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বাস্থ্যসাথীতে দুর্নীতির অভিযোগ, শুরু তদন্ত

মুর্শিদাবাদ জেলায় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ এবার প্রকাশ্যে এল

স্বাস্থ্যসাথীতে দুর্নীতির অভিযোগ, শুরু তদন্ত
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ এবার প্রকাশ্যে এল। চিকিৎসার পর রোগীর পরিবারের কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করেছে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আবার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে সেই রোগীর চিকিৎসার জন্য খরচ বাবদ রাজ্য সরকারের বিমার আবেদন করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের সই করা অপারেশনের কাগজপত্র স্বাস্থ্যসাথী দপ্তরে জমাও করেছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। ফলে একদিকে, এইসব নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ সরকারি কোষাগার থেকে টাকা পাচ্ছে। আবার, রোগীর পবিজনের কাছ থেকেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। দিনের পর দিন এভাবেই প্রতারণা করা হচ্ছে রোগীর পরিজনদের সঙ্গে। কোনও রোগী স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসা করিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারলে তাদের রীতিমতো ভয় দেখানো হচ্ছে। পাঁচ-দশ থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা অবধি নেওয়া হচ্ছে। এভাবেই রোগীর পাশাপাশি প্রতারণা করা হচ্ছে সরকারের সঙ্গেও। খোদ বহরমপুর শহরের বেশ কিছু নার্সিংহোম এভাবেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে দুর্নীতি করে চলেছে বলেই অভিযোগ।

Advertisement

জেলা প্রশাসনের স্বাস্থ্যসাথী বিভাগে এই অভিযোগ জমাও পড়েছে। তারা অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। বেশ কয়েকটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন সার্জেন চিকিৎসকের নামেও অভিযোগ আছে। বেশিরভাগ অভিযোগ অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। বহরমপুরের শিল্পতালুকে বেশকিছু নার্সিংহোমে নিয়মিত চিকিৎসা করেন নামকরা কিছু সার্জেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মূলত স্বাস্থ্যসাথী বিভাগে অভিযোগ জমা পড়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। কিছু অভিযোগ খতিয়ে দেখে টাকা তছরুপের প্রমাণ মিলেছে বলেই জানা গিয়েছে। যার ভিত্তিতে এক অর্থোপেডিক সার্জেন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, বহরমপুরের শিল্পতালুকের ভিতরের একটি নার্সিংহোমে ওই অর্থপেডিক সার্জেন অপারেশন করে রোগীর কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা আদায় করেছেন। আবার তাঁর সই করা কাগজ দেখেই রোগীর বিল ছেড়েছে স্বাস্থ্যভবন। একটি অপারেশন করে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা এসেছে। পাশাপশি রোগীর পরিজনদের কাছ থেকেও তার জন্য টাকা নেওয়া হয়েছে। ওই চিকিৎসক স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে আর কোনও অপারেশন করতে পারবেন না বলে নির্দেশ এসেছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের নামে অভিযোগ জমা পড়েছে। আমরা সবগুলি খতিয়ে দেখছি। তার মধ্যে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বেনিয়মের প্রমাণ মেলায় স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে অপারেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বহরমপুরের বাসিন্দা গৌতমকুমার রায় বলেন, কয়েকদিন আগে আমার দিদির হাত ভেঙে যায়। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অসাধারণ প্রকল্পে বিনামূল্যে পরিষেবা মেলে বলেই জানি। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে নানা অছিলায় আমার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অনেক তর্কবিতর্কের পরে আমাকে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ছ’হাজার টাকা দিতে হয়েছে। নানাভাবে ভয় দেখানো হচ্ছিল। আমরা শহরের বাসিন্দা, এসব ব্যাপারে কমবেশি জানি। তবুও ওদের আটকাতে পারিনি। টাকা নিয়ে তবেই রোগীকে ছেড়েছে। এদিকে, গ্রাম-গঞ্জের মানুষের কাছ থেকে তো অনৈতিকভাবে মোটা টাকা আদায় করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ