নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের সংঘাতের জেরে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। ভোটার সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন ও স্থানান্তর সংক্রান্ত আবেদনের পাহাড় জমতে শুরু করেছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সচরাচর তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার আবেদন জমা থাকে। নিয়মিত ওই কাজ চলতে থাকে। একইসঙ্গে নিষ্পত্তির কাজও চলতে থাকে। এভাবে গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার আবেদন জমা থাকে। এই মুহূর্তে সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২হাজার। আর গোটা রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন সংক্রান্ত সাড়ে চার লক্ষ আবেদনের পাহাড় জমেছে। জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে গোটা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি নিষ্পত্তি না হওয়া ভোটার সংক্রান্ত আবেদন জমা পড়ে রয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, এই মুহূর্তে নতুন বুথ লেভেল অফিসার নিয়োগ ও রেজিস্ট্রেশনের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে জমা পড়া আবেদন নিষ্পত্তির কাজ পুরোদমে চলতে থাকবে।
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না, নন্দকুমার সহ রাজ্যের চার বিধানসভায় নকল আধার ও প্যান জমা করে ভূতুড়ে ভোটারের নাম তালিকায় তোলা হয়েছে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কমিশন চার অফিসার সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য নির্দেশ দিলেও রাজ্য সরকার তা মানেনি। এজন্য মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে কমিশনের অফিসে তলব করা হয়েছিল। পূর্ব মেদিনীপুরে ময়নার ইআরও এবং এইআরও-র বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
কমিশন ভূতুড়ে ভোটার ইস্যুতে খড়্গহস্ত হতেই প্রশাসনের অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় ভোটার তালিকা সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজেনর কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে প্রতিটি বিধানসভায় বুথ লেভেল অফিসার নিয়োগের ঘটনা ঘটছে। শিক্ষকদের অনেকে এই দায়িত্ব নিতে নারাজ। এর ফলে বিডিও-রা শোকজও করছেন। যেমন, খেজুরির তেঁতুলবাড়ি জ্যোতিন্দ্রনারায়ণ বিদ্যামন্দিরের শিক্ষক সৌমিত্র দিণ্ডা বিএলও-র দায়িত্ব নিতে রাজি না হওয়ায় এপর্যন্ত চারবার শোকজ করা হয়েছে। আবার, খেজুরি-২ ব্লকের দেখালি হাইস্কুলের অনুপ পাত্র, খেজুরি-১এর পাটনা বৈকুণ্ঠ শিক্ষাসদনের সমিত করণ শোকজ চিঠি পাওয়ার পর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বুথ লেভেল অফিসারের দায়িত্বভার নিয়েছেন।
বুথস্তর থেকেই বিএলও-রা ভোটার তালিকা সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের প্রাথমিক কাজ করেন। সেই রিপোর্ট ব্লকে আসার পর অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলোটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের মাধ্যমে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের(ইআরও) কাছে পৌঁছয়। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। অনেকক্ষেত্রে বিএলও-র কাছ থেকে সময়মতো রিপোর্ট না এলেও ব্লকের ডেটা এন্ট্রি অপারেটদের থেকে তথ্য নিয়ে আবেদন নিষ্পত্তি করা হতো। কিন্তু, নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ির জেরে এখন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের থেকে তথ্য নিয়ে ডিসপোজ করা আপাতত বন্ধ। তাই সর্বত্র বুথ লেভেল অফিসার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আপাতত ওই কাজ শুরু হবে না।
ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভার ঘটনা নিয়ে সতর্ক পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। ওই দুই বিধানসভায় ১৪১জন ভূতুড়ে ভোটার চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তমলুক ব্লকের অফিসার ইন-চার্জ ইলেকশন সুদীপ্ত দাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর পাশাপাশি ময়না বিধানসভার ইআরও তথা জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসার বিপ্লব সরকারের বিরুদ্ধেও এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এই ঘটনা থেকেই সতর্ক গোটা জেলা প্রশাসন।