নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মায়ের কর্নিয়া ‘বিক্রি’র অভিযোগে ধৃত আমিরচাঁদ শেখের মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। শামিল হন সমাজকর্মী, পরিবেশকর্মী, বিজ্ঞানমঞ্চের কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। তাঁরা থানার সামনে রাস্তা অবরোধ করেন। যারফলে বেশ কিছুক্ষণ গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। পাশাপাশি থানায় ডেপুটেশন দেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ অতি সক্রিয় হয়ে প্রাথমিক তদন্ত না করেই সমাজকর্মী আমির সাহেবকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের দাবি, এই গ্রেপ্তারের জেরে দেহদান-চক্ষুদানের আন্দোলন ব্যাহত হবে।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের নদীয়া জেলার ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট অদ্বৈত বিশ্বাস বলেন, যাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হল তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কিডনি পাচারও করা হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল। কিন্তু ময়নাতদন্তের পর মৃতের শরীরে কিডনি পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ একজন সমাজকর্মীর সম্মান নষ্ট করেছে। এই চক্রান্তকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। উল্লেখ্য, সোমবার মৃত মায়ের কর্নিয়া বিক্রির অভিযোগে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত সেনপুর শ্যামনগর এলাকায় একই পরিবারের ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারমধ্যে রয়েছেন আমিরচাঁদ শেখ। জানা গিয়েছে, রবিবার বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর মা রাবেয়া বিবির মৃত্যু হয়। অভিযোগ, মৃত্যুর পর পরিবারের উপস্থিতিতেই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা চিকিৎসককে এনে কর্নিয়া সংগ্রহ করে নিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের দাবি, কর্নিয়া দানের কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার ধৃতদের কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিন জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। যদিও সংস্থার তরফ থেকে দাবি করা হয়, নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হয়েছে। কর্নিয়া সংগ্রহের জন্য পরিবারের অনুমতিপত্র নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ওই কর্নিয়া মুর্শিদাবাদ মেডিকেলের আইব্যাঙ্কে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ভূমিকায় বিভিন্ন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।এব্যাপারে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, গণপিটুনির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। সেইসঙ্গে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। আমরা অভিযুক্তদের হেপাজতে নিইনি। জেল হেপাজত হয়েছে। সমাজকর্মীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আগামী দিনে এই অঙ্গদানের বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করব আমরা। -নিজস্ব চিত্র