নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের প্রশ্নে এখনও অনড় অবস্থানে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। জেলা নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে হলদিবাড়ি, মাথাভাঙার চেয়ারম্যান, তুফানগঞ্জের ভাইস চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলেও রবীন্দ্রনাথ ঘোষ প্রথম থেকেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন,মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ পেলে তিনি পদত্যাগ করতে সময় নেবেন না। বর্ষীয়ান নেতার এই অনড় অবস্থানে দলও অস্বস্তিতে পড়েছে। ফলে কার্যত স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। রবি-অনুগামীদের একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন। তাঁরা সেখানে স্পষ্ট ঈঙ্গিত দিচ্ছেন, রবিবাবুকে এভাবে সরালে তাঁরাও চুপ করে বসে থাকবেন না। অন্যদিকে, রবি বিরোধী গোষ্ঠীও পরিস্থিতির আঁচ বোঝা ও জল মাপার কাজ করছে। কারণ তারা জানে রবিবাবুর মতো দুঁদে রাজনৈতিক নেতা এই পরিস্থিতিতে চুপচাপ বসে থাকবেন না। এই জটিল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তিনিও তুরুপের শেষ তাস ব্যবহার করবেন। সব মিলিয়ে কোচবিহারের রাজনীতিতে এখন তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যেমন চরমে পৌঁছছে, তেমনি চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া না দেওয়া ও রবির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চর্চা চলছে। কোচবিহারে এখন রাসমেলা চলছে। সেখানে প্রতিদিনই স্বমহিমায়, স্বপারিষদ গভীর রাত পর্যন্ত বসে থাকছেন পুর চেয়ারম্যান। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কি রাসমেলার পর নতুন কোনও সমীকরণ দেখা যাবে?
পদত্যাগ প্রশ্নে রবিবার রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, আমার কাছে কোনও বার্তা আসেনি। এধরনের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য নেতৃত্ব। জেলা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সেটা আগেও বলেছি, এখনও বলছি। আমি আমার পূর্ব সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছি।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, এবিষয়ে দলের জেলা সভাপতি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি নিজের কথা বলেননি। রাজ্য নেতৃত্বের কথা বলেছেন। সেইমতো চার জন পদত্যাগ করেছেন, একজন করেননি। বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্ব দেখে নেবে। গত বুধবার দলের জেলা নেতৃত্বের তরফে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, মাথাভাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিক, হলদিয়াড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান শংকরকুমার দাস, ভাইস চেয়ারম্যান অমিতাভ বিশ্বাস, তুফানগঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তনু সেনকে মেসেজ ও চিঠি করে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। দলের সেই নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবারই পদত্যাগ করেছেন তনু সেন। পরে কিছুটা জলঘোলা হলেও হলদিবাড়ির ও মাথাভাঙার চেয়ারম্যানও পদত্যাগ করেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বৃহস্পতিবারই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন জেলা নেতৃত্ব এভাবে নির্দেশ দিতে পারে না। এটা তাদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললে তিনি মুহূর্তে তা কার্যকর করবেন। জেলা নেতৃত্বের মেসেজ পাওয়ার পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও পদত্যাগ তো দূর অস্ত রবিবাবু, এখনও তাঁর নিজের অবস্থান থেকে এক চুলও সরেননি। বরং দিনে পুরসভার রুটিন কাজ করছেন। আর সন্ধ্যা হতেই জমজমাট রাসমেলায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রাসমেলার সাংস্কৃতিক মঞ্চের সামনে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন। তাঁর অনেক অনুগামীকেই আড়ালে আবডালে বলতে শোনা যাচ্ছে, খাদের ধারে দাঁড়িয়ে এই চাপ তিনি কীভাবে সহ্য করছেন।