সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: ‘আশ্বিনের শারদ প্রাতে’ রেডিওতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ভাবগম্ভীর কণ্ঠে মহালয়া শুনতে আসার আগে সেই ভোরে স্নান সেরে আসতেন প্রতিবেশীরা। সেই সময় রেডিও কদর ছিল। তাঁর পরিবারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রেডিওতে শোনা হতো নানা অনুষ্ঠান। ছোটবেলার সেই পারিবারিক রেডিও প্রীতি পরবর্তীতে এড়িয়ে যেতে পারেননি কোচবিহারের বাসিন্দা অধ্যাপক অলোক সাহা। দীর্ঘসময় ধরে ১৫০টিরও বেশি রেডিও সংগ্রহ করেছেন সারা জীবন ধরে। আর সংগ্রহ করা রেডিও থেকেই বেছে বেছে ৫০টিরও বেশি রেডিও একসঙ্গে তিনি বাজান মহালয়ার ভোরে। সেসব রেডিও যখন একসঙ্গে বাজে তখন প্রত্যেক বছর এক অদ্ভুত আবহের সৃষ্টি হয়। যা অলোকবাবুর মনে নিয়ে আসে এক অনিবর্চনীয় আনন্দ।
কোচবিহারের পাটাকুড়ার টেম্পল স্ট্রিটের বাসিন্দা তুরা সরকারি কলেজের বাংলার অধ্যাপক অলোক সাহা বলেন, তখন বাড়িতে রেডিওর খবর, অনুষ্ঠান শোনা হতো। বাড়ির মেয়েদের বিয়েতে রেডিও দেওয়া হতো। আমার বাবার নির্দিষ্ট রেডিও ছিল। সময় মতো অন করতেন। রাতে আমি সেটি শুনতাম। তখন রেডিওতে কাব্যলোক শুনতাম। সেখান থেকেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা আমি প্রথম শুনি। সাহিত্যবোধ সেখান থেকে জন্মায়। একবার বাড়ি থেকে রেডিও ডাকাতিও হয়েছিল। ১৯৭৪-‘৭৫ সালে মাথাভাঙায় এই ঘটনা ঘটেছিল। মহালয়ার দিন বহু মানুষ স্নান সেরে মহালয়া শুনতে আমাদের বাড়িতে আসত। পরবর্তীতে আমি রেড়িও সংগ্রহ শুরু করি। আমার কাছে বাল্ব রেডিও, ট্রানজিস্টার রেডিও-ও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের রেডিও আমার কাছে আছে।
টেম্পল স্ট্রিটের বাড়ির একটি ঘরে রীতিমতো র্যাক করে রেডিওগুলিকে রেখেছেন অলোকবাবু। প্রতি বছর মহালয়ার আগে সব রেডিও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেন। প্রচুর ব্যাটারি কিনে নেন আগে থেকেই। আর এসব রেডিও সারাতেও জানেন তিনি। অনলাইনে সারা ভারত থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনিয়ে নেন। কথা বলতে বলতে জানা গেল, ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের রেডিওর নানা মডেল তাঁর সংগ্রহে রয়েছে। ১৯৪৮ সালের সেই রেডিওটি লন্ডনে তৈরি করা। এটি জেনারেল ইলেকট্রিক কর্পোরেশনের তৈরি। এছাড়াও রয়েছে ফিলিপস কোম্পানির রেডিও। হল্যান্ড, সোভিয়েত ইউনিয়ন, জাপানে তৈরি রেডিও রয়েছে তাঁর সংগ্রহে। ভারতের রেডিও তো আছেই, সারা বিশ্বের রেডিও এবং তার সম্প্রচার সহ এই সংক্রান্ত নানা তথ্য তাঁর কণ্ঠস্থ। তিনি যেন চলমান এক রেডিওম্যান। - নিজস্ব চিত্র।