নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারে বিজেপির ছ’জন বিধায়ক। একজন পাঁচ বছর সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র রাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। তা সত্ত্বেও কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়িতে তাঁরা জ্বালাতে পারেননি আলো। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, এতজন বিধায়ক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাহলে কী করলেন! বিজেপি সর্বক্ষণ রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকারের কথা বলে চলেছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হলে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাবে। কিন্তু কোচবিহার রাজবাড়িটি তো আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার অধীনে। কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ এবং জেলার ছয় বিজেপি বিধায়ক কেন এবিষয়ে তৎপর হলেন না?
কেন রাত নামলেই কোচবিহার রাজবাড়ি কার্যত অন্ধকারে ডুবে থাকে? এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহার শহরকে হেরিটেজ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু করেছেন, সেখানে পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ রাজবাড়িতেই রাতে টিম টিম করে কয়েকটি আলো জ্বলে। দূর থেকে রাজবাড়িকে দেখলে অন্ধকারে ডুবে থাকা এক রহস্যময় প্রাসাদ বলে মনে হয়!
যদিও বিজেপির দাবি, বিষয়টি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রীকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি পরবর্তীতে আর ওই দপ্তরের মন্ত্রী না থাকায় বিষয়টি এগয়নি।
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ছ’জন বিধায়ক ও একজন প্রাক্তন সাংসদ তথা রাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার পরেও তাঁরা কোচবিহার রাজবাড়িকে আজ পর্যন্ত আলোকিত করতে পারলেন না। তাঁরা উত্তরবঙ্গ বা রাজ্যের মানুষের ভবিষ্যৎ কীভাবে আলোকিত বা সুরক্ষিত করবেন? রাজবাড়ির মতো হেরিটেজ স্থাপত্য দেখার জন্য হাজার হাজার পর্যটক আসেন। অথচ সেটির সৌন্দর্যায়ন করতে তাঁরা ব্যর্থ। আলো জ্বালানোর কাজেও ডাহা ফেল। কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে’র কথায়, কয়েকবছর আগে তৎকালীন কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী প্রহ্লাদ প্যাটেল কোচবিহারে এসেছিলেন। আমরা তখন তাঁকে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানাই। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ওই দপ্তরের মন্ত্রী থাকেননি বলে সেভাবে এগনো যায়নি। কয়েকজন বিধায়ক মিলে এটা জানিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে কোচহিারের প্রাক্তন এমপিকে ফোন এবং মেসেজ করা হলেও জবাব মেলেনি।
কী বলছেন বর্তমান এমপি জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া? তাঁর বক্তব্য, সংসদের বাদল অধিবেশনে কোচবিহারের রাজবাড়ির সৌন্দর্যায়ন এবং সংস্কারের প্রসঙ্গ উত্থাপন করার চেষ্টা করব। পর্যটনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে চিঠি দিয়ে আসব।