সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: কোচবিহার পুরসভার অধীনে থাকা শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবন এবার সংস্কারে হাত দিতে যাচ্ছে পুরকর্তৃপক্ষ। ভবনগুলি সংস্কার করে উৎসব অনুষ্ঠানে ভাড়া দিলে এতে পুরসভার আয় বৃদ্ধি পাবে। পুরসভার অধীনে রয়েছে পান্থ নিবাস, চিলা রায় ভবন, দেশবন্ধু মার্কেট, নতুন বাজার, বিপাশা ভবন সহ আরও কয়েকটি ভবন। কমবেশি প্রতিটি ভবনই সংস্কারের অভাবে ঠিক নেই। তাই এসব সংস্কারের উদ্যোগী হয়েছে পুরসভা।
পুরসভার অধীনে থাকা পান্থ নিবাস বহুদিন ধরেই বেহাল হয়ে রয়েছে। ত্রিতল ভবনটির সামনের দিকের বড় অংশের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বেরিয়ে এসেছে মরচে ধরা লোহার রড। ভবনের ভিতরে আছে সুকান্ত মঞ্চ। সেটিও একেবারে বেহাল অবস্থায়। প্রেক্ষাগৃহের ব্যালকনির অবস্থা এতটাই খারাপ যে, দর্শকরা ঠিকমতো বসতে পারেন না। এসব কারণেই ভবন ভাড়া নেওয়ার আগ্রহ লোকজনের মধ্যে কমছে। ফলে আয়ও কমছে পুরসভার।
একই অবস্থা মরাপোড়া মোড়ে থাকা চিলা রায় ভবনটিরও। পুরসভার এই ভবনটির পরিস্থিতি এতটাই খারাপ, যেকোনও সময় এটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। ভবনের উপরতলায় ১৪-১৫টি থাকার ঘর আছে। সেখানে সামাজিক অনুষ্ঠান করার হলঘরও আছে। এছাড়া নীচতলায় রয়েছে বেশ কয়েকটি দোকান ঘর। কয়েক বছর আগেও হলঘর ভাড়া নিয়ে বিয়ে সহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান হতো। পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। ফলে এই ভবন থেকেও একটা ভালো আয় হতো পুরসভার। কিন্তু সেই আয় কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
এমন অবস্থায় পুরসভার অধীনে শহরে থাকা বেহাল ভবনগুলি সংস্কার করে আয় বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে পুরকর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, নিজস্ব আয় বৃদ্ধিতে আমরা জোর দিয়েছি। তাই শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবন সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি। ভবনগুলি সংস্কারের জন্য টাকা চেয়ে আমরা রাজ্যে আবেদনও পাঠিয়েছি। আমরা সমীক্ষা করে দেখেছি, শহরের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবসায়ীর ট্রেড লাইসেন্স নেই। থাকলেও অনেকে নবীকরণ করেননি। অথচ তাঁরা ব্যবসা করে যাচ্ছেন। তাঁদেরও ট্রেড লাইসেন্স করানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এটা একশো শতাংশ করা গেল আমাদের আয় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। কোচবিহারের পান্থ নিবাসের বেহাল দশা। - নিজস্ব চিত্র।