সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: দিনের পর দিন এক্স-রে করানোর পর রোগীদের সেই এক্স-রে প্লেট দেওয়া হচ্ছে না। এমনই অভিযোগ কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। হাসপাতাল থেকে কখনও বলা হচ্ছে এক্স-রে প্লেট নেই, আবার কখনও বলা হচ্ছে প্রিন্টার খারাপ। যাঁদের অ্যান্ড্রোয়েড ফোন রয়েছে, তাঁদের এক্স-রে’র কপি ফোনের মাধ্যমে ছবি তুলে নিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু যাঁদের অ্যান্ড্রোয়েড ফোন নেই তাঁদের ৩-৪ দিন পর ফের এক্স-রে করাতে আসতে বলা হচ্ছে। আর তার জেরেই দূরদূরন্ত থেকে আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে কোচবিহার শহরেরই বাসিন্দা পার্থ অধিকারী কোমরে চোট পেয়ে মেডিক্যালে আসেন। এরপর ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসকরা তাঁকে দেখার পর এক্স-রে করিয়ে আনতে বলেন। এক্স-রে ইউনিটে গিয়ে এক্স-রে করার পর তাঁকেও অ্যান্ড্রোয়েড ফোনে এক্স-রে’র ফটোর ছবি তুলে নিতে বলা হয়। কারণ হিসেবে জানানো হয় এক্স-রে প্লেট নেই। কবে প্লেট আসবে সেটাও নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কর্মীরা। এরপর বাড়ি ফিরে রাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে এই সমস্যার কথা তিনি তুলে ধরেন এবং মেডিক্যালের এমএসভিপি’কে সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অর্জি জানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্ট করা সেই ভিডিও ভাইরাল হয়।
শুক্রবার দুপুরেও একই চিত্র ছিল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক্স-রে ইউনিটে। এদিন এক্স-রে করাতে আসা বলরামপুরের বাসিন্দা নমিতা চক্রবর্তী বলেন, দুপুর ১টা নাগাদ এক্স-রে করাই। বিকেল ৪টে বেজে গেলেও রিপোর্ট ও এক্স-রে প্লেট কিছুই দেওয়া হয়নি। প্রচণ্ড গরমে আর বাইরে বসে থাকা যাচ্ছে না।
এমজেএন মেডিক্যল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ সৌরদীপ রায় বলেন, এক্স-রে ইউনিটি পিপিপি মডেলে চলছে। স্বাস্থ্যভবন থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সংস্থাকে আমরা শোকজ করেছি। পাশাপাশি বিষয়টি স্বাস্থ্যভবনেও জানানো হয়েছে। যাতে ওই সমস্যা দ্রুত মিটে যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র।